বৃহস্পতিবার । মার্চ ১২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক আর নেই


Ahmad-Rafiq

ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রচর্চার বিশিষ্ট গবেষক আহমদ রফিক আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

সাংবাদিকদের আহমদ রফিকের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর বিশেষ সহকারী মো. রাসেল ও গাড়ি চালক মো. কালাম।

চিকিৎসকরা জানান, মৃত্যুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল বুধবার বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা ও একাধিক মাইল্ড স্ট্রোকে ভুগছিলেন এই প্রথিতযশা প্রাবন্ধিক।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে গত রোববার তাঁকে স্থানান্তর করা হয় বারডেমে। ডা. কানিজ ফাতেমার তত্ত্বাবধানে সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা।

ব্যক্তিজীবনে আহমদ রফিক নিঃসঙ্গ ছিলেন। ২০০৬ সালে স্ত্রীকে হারানোর পর তিনি একাই বসবাস করতেন রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরে। সন্তান না থাকলেও তাঁর একমাত্র সঙ্গী ছিল বিশাল বইয়ের সংগ্রহ।

১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া আহমদ রফিক ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও প্রামাণ্য দলিল রচনায় অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। রবীন্দ্র-গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে দিয়েছে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি।

শেষ জীবনে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন আহমদ রফিক। ২০১৯ সালে চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে তাঁর একটি পা ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২০২৩ সাল নাগাদ তিনি প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন।

মৃত্যুর আগে নিজের দেহ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।