বৃহস্পতিবার । জানুয়ারি ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরের ছয় সাফল্য তুলে ধরলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম


CA 3

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশন শেষে দেশে ফিরেছেন। নিউইয়র্ক সফরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেয়াসহ নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবিক নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক ভিশনের বার্তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফর নিয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। ইংরেজিতে দেওয়া সেই পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার সফরের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের দিক তুলে ধরেন তিনি।

প্রথমত, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ড. ইউনূস। সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আশ্বাস দেন। বিশেষ দিক ছিল—একই সফরে তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ, যা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক যাত্রার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয়ত, কৌশলগত সংলাপে অংশ নেন তিনি। ইতালি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আলবেনিয়া, কসোভো ও ভুটানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা ও নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমাসহ বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজে যোগ দিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতাও করেন তিনি।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা ইস্যু ছিল সফরের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তিনি আশ্রয় ও মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে অতিরিক্ত ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তাও নিশ্চিত হয়।

চতুর্থত, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে জাতিসংঘকে স্বাধীন মূল্যায়ন করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ পদক্ষেপ দেশের উন্নয়নযাত্রায় আস্থা ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেয়।

পঞ্চমত, শ্রম অভিবাসনের নতুন সুযোগ উন্মোচিত হয়েছে। কসোভো, আলবেনিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ পায়, যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নতুন দরজা খুলবে।

ষষ্ঠত, সার্বিকভাবে সফরটি বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গণতান্ত্রিক শাসন, মানবিক সংহতি ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বার্তা দৃঢ়ভাবে উচ্চারিত হয়েছে।

ড. ইউনূসের এই সফরকে শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য গণতান্ত্রিক ঐক্য, মানবিক নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শফিকুল আলম।