রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

সমঝোতার পথে জামায়াত-এনসিপি, আসতে পারে ঘোষণা


Jamat-Ncp

নির্বাচনী সমঝোতার পথে অনেকটাই এগিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলীয় সূত্র জানায়, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এ লক্ষ্যে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দলের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে।

তবে জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে এনসিপির ভেতরেই মতভেদ রয়েছে। সদ্য পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টা ও তাঁদের সমর্থকরা জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ ইস্যুতে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

জামায়াত ও এনসিপির আলোচনা চলার মধ্যেই আট দলীয় জোটে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন ও মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। তারা আসন বণ্টন নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিলেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি। দলগুলোর অভিযোগ, জামায়াত নিজে বেশি আসনে প্রার্থী দিতে চাইছে এবং মিত্রদের জন্য কম ছাড় দিচ্ছে।

এর আগে বিএনপির সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর আবারও বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

এনসিপি সূত্র জানায়, দলটি জামায়াতের কাছে অন্তত ৫০টি আসন চেয়েছে, যা জামায়াতের কাছে তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আবারও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় এনসিপির একটি অংশ সমর্থন দিলেও আরেকটি অংশ তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে।

এদিকে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের দাবি করেছেন, দর-কষাকষির পর এনসিপির জন্য ৩০টি আসনে রফা হয়েছে এবং শিগগিরই জোটের ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে এনসিপি ও এবি পার্টি মিলে জামায়াতের সঙ্গে যৌথভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করছে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু হওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন জোট থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সরে গেছে।

জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলমান এবং দ্রুত সমাধান হবে। আট দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, সংস্কারের পক্ষে থাকা সব দল একসঙ্গে নির্বাচন করবে, জোট ভাঙার কোনো সম্ভাবনা নেই।