সোমবার । জুন ১, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানে হামলার আশঙ্কায় ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক


biman

প্রতীকী ছব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়েছে। শীর্ষ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত করছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে নেদারল্যান্ডসের কেএলএম, জার্মানির লুফথানসা এবং ফ্রান্সের এয়ার ফ্রান্সসহ একাধিক বড় এয়ারলাইন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইট বাতিলের প্রভাবে ইসরায়েল, দুবাই ও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি উল্লেখ করে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে কেএলএম জানায়, ইরান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো গন্তব্যে আপাতত ফ্লাইট পরিচালনা করবে না।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর পরও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো শিথিলতা দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন নৌবহরের অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার শিগগিরই আরব সাগর বা পারস্য উপসাগর অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এয়ার ফ্রান্স ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো তেলআবিবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হাবে ফ্লাইট বাতিল করেছে। লুফথানসা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলে শুধুমাত্র দিনের বেলা ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং ইরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলবে।

এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স জানায়, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমরা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছি। যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

কেএলএম জানায়, তারা তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং ইরান, ইরাক, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে না। ডাচ গণমাধ্যম এনওএসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ বিষয়ে তারা নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এবং কানাডার এয়ার কানাডা-ও তেলআবিবগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় ইরান প্রায় চার ঘণ্টার জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখে। এতে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ব্যাহত হয়।