
ছবি: সংগৃহীত
এক-এগারোর পট পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারিগর এবং ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৭ সালের এক-এগারোর সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। সে সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি থাকাকালীন তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হওয়া এই কর্মকর্তার নেতৃত্বেই তখন দেশজুড়ে আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হয় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সামরিক জীবন থেকে অবসরের পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেও পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দেন এবং দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত হন।
পরবর্তীতে তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ঠিক কোন মামলায় বা নির্দিষ্ট কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে সোনাগাজী বাজারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন।
এ প্রসঙ্গে ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের অসংখ্য নেতাকর্মী চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।







































