বৃহস্পতিবার । এপ্রিল ৯, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজধানী ৮ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

ঢামেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ


dmc-emergency

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সাধারণ রোগী।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে একটি ওষুধের নাম লিখে দেন। ওই ওষুধটি হাসপাতালের ভেতরে না পেয়ে এবং বাইরের ফার্মেসিতেও খুঁজে না পাওয়ায় সহপাঠীদের নিয়ে পুনরায় জরুরি বিভাগে ফিরে আসেন ওই শিক্ষার্থী। ওষুধ পরিবর্তন করা নিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঢাবির নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল হাসানের দাবি, ওষুধ পরিবর্তনের অনুরোধ করলে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন। তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্বরত অবস্থায় তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক কর্মবিরতির ডাক দেন। এর ফলে জরুরি বিভাগের সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়, যা এক পর্যায়ে মানবিক সংকটে রূপ নেয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে হাসপাতাল এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলার বিচার এবং হাসপাতালের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা জরুরি সেবা চালু করবেন না।