sentbe-top

২০১২ সালে কোরিয়ার যা যা আলোচিত

 

২০১২ সালটা কোরিয়ার জন্য ছিল বহুল আলোচিত ঘটনার বছর। জাতীয় নির্বাচন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, বড় বড় কোম্পানীগুলোর আধিপত্য, সাইয়ের খাংনাম স্টাইল কিংবা তথ্যপ্রযুক্তিতে কোরিয়ার নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আবির্ভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। কোরিয়ার ডেইলি জুসন ইলবো অবলম্বনে রিপোর্টটি তৈরি করেছেন মো. মহিবুল্লাহ।

 এই বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মাঝে গতানুগতিক রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের প্রবণতাটা ছিল লক্ষ্য করার মতো, যেখানে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক ভোটাররা পুরনো দলগুলোর প্রতিই তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন। অর্থনৈতিকভাবে এ বছর কোরিয়া বাণিজ্যের নতুন রেকর্ড অর্জন করেছে, যদিও সাধারণ মানুষের মাঝে সেটার খুব বেশী প্রভাব লক্ষণীয় ছিল না। বড় বড় ব্যবসাগুলোয় বেশ তেজি ভাব দেখা গেলেও ক্ষুদ্র শিল্পভিত্তিক বাজারের ভবিষ্যৎ অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় হতাশাজনকই। তবে একটা ব্যাপার অন্তত নিঃসন্দেহে বলা যায়, দুনিয়াজুড়ে “খাংনাম স্টাইল” উন্মাদনা কোরিয়া তো বটেই, গোটা বিশ্বের জন্যেই ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা।

নতুন প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হে

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্যানুরি পার্টি সমর্থিত প্রার্থী পার্ক গুন হে কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। অবশ্য এটি হবে পার্কের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের বাসস্থান চংওয়াদে’তে (প্রেসিডেন্ট ভবনের কোরিয়ান নাম) প্রত্যাবর্তন, যেটা ছিল তাঁর বাবা পার্ক জং-হি’র আবাসস্থল, যিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৭৯ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত দক্ষিন কোরিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে পার্ককে বেশ কিছু কঠিন কাজ করতে হবে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আদর্শগতভাবে বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা, ধনী-গরিবের মাঝে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে বিবাদমান বিষয়গুলো মীমাংসা করা।

নতুন প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হে

 বছরের শুরুতে জনপ্রিয়তায় চরম ধ্বসের সম্মুখীন স্যানুরি পার্টি জাতীয় সংসদে ১০০ আসনও পাবে কিনা এ নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এপ্রিল ’১১ এর নির্বাচনে দলটি প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক ইউনাইটেড পার্টি এবং বামপন্থী প্রোগ্রেসিভ পার্টিকে পিছনে ফেলে ১৫২টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। স্যানুরি পার্টির একটি ইমারজেন্সি টাস্ক ফোর্সের প্রধানের দায়িত্বে থাকা পার্ক দলটিকে অচলাবস্থা থেকে বের করে আনায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা প্রমানের পাশাপাশি অবৈধ প্রচারণার বিতর্ক থামিয়ে দিয়ে তাঁর বাবার দমনমূলক নীতির প্রতি মৌন সমর্থন রেখেই নির্বাচনী বৈতরণী উৎরে যেতে সক্ষম হন।

প্রফেসর আন ছল সু

তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করলেন আন ছল-সু

বিশেষজ্ঞদের সব ভবিষ্যৎবাণী উপেক্ষা করে প্রভাবশালী ধনাঢ্য সফটওয়্যার ব্যবসায়ী এবং সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আন ছল-সু’র জনপ্রিয়তা বছর জুড়েই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গতানুগতিক রাজনীতিকে বিদায় জানাতে আনের আহ্বানে অপেক্ষাকৃত নতুন ভোটারদের সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্ষমতাসীন স্যানুরি পার্টির প্রার্থী পার্ক গুণ শিয়ের জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন আন ছল-সু।

কিন্তু নভেম্বরের শেষভাগে ডেমোক্র্যাটিক ইউনাইটেড পার্টির সমর্থিত মুন জায়ে ইনকে বিরোধী পক্ষের একক প্রার্থী করার পরিকল্পনায় মতানৈক্যের জের ধরে আন ছল-সু হঠাৎ করেই নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু তাতে তরুণ ভোটারদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। হয়তো আগামী নির্বাচনে তাকে দেখা যেতে পারে আরো নতুনভাবে।

উত্তর কোরিয়ার রকেট উৎক্ষেপণ

কিম জং-উন ক্ষমতায় আসার পর ১২ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয়বারের মতো রকেট উৎক্ষেপণ করেছে এবং সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। এই সফল উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণে জানা যায় উত্তর কোরিয়ার রকেটটি পাঁচশ কেজি যুদ্ধাস্ত্রসহ দশ হাজারের বেশী কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। কিন্তু কিম উত্তর কোরিয়ার রুগ্নপ্রায় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ব্যর্থ হয়েছেন যেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত অনাহারে মারা যাচ্ছে। স্ব-পুনর্বাসনের ঘোষণা দেয়া উত্তর কোরিয়া বছরটিকে নিজেদেরকে “শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি” হয়ে ওঠার শুরু বলেও দাবী করেছে।

 অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক মাইলফলক অর্জন

৫০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ কোরিয়া এ বছর মাথাপিছু ২০,০০০ ইউএস ডলার আয় নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে সপ্তমস্থানে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ’র সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত রিপোর্টে কোরিয়ার ক্রেডিট রেটিং এক পয়েন্ট বেড়ে এ+ থেকে এএ- এ উঠে এসেছে যা প্রথমবারের মতো জাপানকে (ক্রেডিট রেটিং এ+) পিছনে ফেলেছে। অন্যদিকে অক্টোবরে ইনচনের নতুন শহর সংদোতে জাতিসংঘের এশিয়াভিত্তিক সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এর প্রধান কার্যালয় স্থাপনের জন্য মনোনীত হয়েছে।

গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ডের প্রধান কার্যালয় ইনচন মনোনীত হওয়ার পরে প্রেসিডেন্ট লি

বিশ্ব তারকার খ্যাতি পেলেন সাই

র‍্যাপ গায়ক সাই তাঁর “খাংনাম স্টাইল” গানটি দিয়ে দুনিয়াজুড়ে উন্মাদনার ঝড় তুললেন। ঘোড়ায় চড়ে নাচ আর আবেদনময়ী সুর-তালে গাওয়া গানটি শুধু কোরিয়ার মিউজিক চার্টেই শীর্ষস্থান দখল করে ক্ষান্ত থাকেনি, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ইউটিউবে এই চমকপ্রদ গানটি উপভোগ করেছেন।

কোরিয়ান ভাষায় হওয়া সত্ত্বেও গানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড চার্টে টানা সাত সপ্তাহ দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখে এবং ভিডিওটি ইউটিউবে এক বিলিয়নেরও বেশী বার দেখা হয়।

ব্রিটিশ অফিশিয়াল একক সঙ্গীত তালিকাতেও গ্যাংনাম স্টাইল এক নম্বর অবস্থান দখল করে; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চিলিসহ বিশ্বের ৪১টি দেশে আইটিউন্সে সর্বাধিক বিক্রিত গানের রেকর্ড অর্জন করে।

বছরের আলোচিত তারকা সাই

 

sentbe-top