
জার্মান বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা বিএমডব্লিউ
জার্মান বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা বিএমডব্লিউ (বায়েরিশে মোটোরেন ভেরকে) চলতি সপ্তাহে মুনাফা কমার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর কর্মী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবসায়িক চাপ মোকাবিলায় তারা দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচন কর্মসূচি আরও জোরদার করবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিএমডব্লিউর সাধারণ ওয়ার্কস কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানান, কোম্পানি ও কর্মী প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। তবে সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গত তিন বছরের মধ্যে এটি বিএমডব্লিউর তৃতীয় প্রফিট ওয়ার্নিং। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চীনের বাজারে কম চাহিদা। বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজার হিসেবে পরিচিত দেশটিতে বিক্রি কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি চাপে পড়েছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যাওয়াও তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিএমডব্লিউ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, কোম্পানিটি ইউরোপে কর্মীসংখ্যা কমাতে পারে এবং একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকা ও চীনে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারে।
ওয়ার্কস কাউন্সিলের মুখপাত্র রয়টার্সকে দেওয়া এক ই-মেইল বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা প্রথমে কর্মীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীল সংলাপের মাধ্যমে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
জার্মানির অন্যান্য বড় গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেন এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ ইতোমধ্যে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই কর্মসূচি ঘোষণা করলেও বিএমডব্লিউ এখনো তেমন কোনো ব্যাপক পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। তবে ২০২৫ সালে তাদের মোট কর্মীসংখ্যা কিছুটা কমেছে এবং চলতি বছরও সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোম্পানির নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিলান নেদেলকোভিচ মুনাফা সতর্কবার্তা ঘোষণার সময় জানান, কোম্পানি কাঠামোগত ব্যয় কমানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করবে। এর ফলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এককালীন কিছু আর্থিক প্রভাব দেখা যেতে পারে।
বর্তমানে বিএমডব্লিউ ধারণা করছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী তাদের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিএমডব্লিউ’র মোট কর্মীসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার। এর অর্থ প্রায় ৭ হাজার ৭০০টি পদ বিলুপ্ত হতে পারে।
তবে কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই কর্মীসংখ্যা হ্রাস সরাসরি ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে নয়; বরং অবসর গ্রহণ, স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ এবং নতুন নিয়োগ সীমিত রাখার মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
বিএমডব্লিউর এই ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সতর্কবার্তা প্রকাশের পর কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়, যা বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পে চাহিদা ও ব্যয়সংকটের গভীরতাকেই তুলে ধরছে।






































