sentbe-top

আবুধাবিতে ভবনে আগুন ৩ বাংলাদেশিসহ ১০ জন নিহত

uaeসংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ভবনে আগুন লেগে অন্তত তিন বাংলাদেশিসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরের দিকে আবুধাবির শিল্পনগরী মুজাফায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হলেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার এনামুল হক (৩৭)। অন্য দুজনের বাড়ি একই জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় বলে আবুধাবির একটি সূত্রে জানা গেছে। তাঁরা হলেন ওই উপজেলার বাবুনগর এলাকার আবদুস শুক্কুর ও সেলিম উদ্দিন।
আরব আমিরাতের গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মরদেহগুলো আবুধাবির শেখ খলিফা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো প্রায় ১০ জন দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে রাউজানের চারজন আছেন। তাঁরা হলেন নোয়াপাড়া এলাকার ইসমাইল ও আজম, বাগওয়ান ইউনিয়নের পাঁচকাইন এলাকার মহিউদ্দিন, রাউজানের দিদার। তাঁরা আবুধাবির মোখরাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া আগুনে ভারত ও পাকিস্তানের আরো কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন।
বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির আমিরাত ইনচার্জ (চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা) সিবলী আল সাদিক গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা) আবুধাবির ৭ নম্বর মুজাফার আল ওয়াসিন টায়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আগুন লাগে। আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর এমরানুল হক তাঁদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছেন সিবলী। আবুধাবির গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ জানায়, টায়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়টি যে ভবনে তার ওপরের তলাগুলোতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা থাকতেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দূতাবাসের লোকজন সেখান গেছে। পোড়া দেহগুলো চেনার উপায় নেই। এখন পর্যন্ত আমরা তিনজন বাংলাদেশির কথা জানতে পেরেছি।’
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ওই ভবনে আগুন লাগে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। বিস্তারিত তথ্য পেতে আরো সময় লাগতে পারে।’ উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। সরকারি হিসাবে বর্তমানে ১২ থেকে ১৫ লাখ বাংলাদেশি আমিরাতে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। ২০১৩ সালের জুন মাসে শারজায় একটি কীটনাশক তৈরির কারখানায় আগুন লেগে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। ২০১০ সালে দুবাইয়ে এক অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন আরো চার বাংলাদেশি। কালের কন্ঠ।
sentbe-top