cosmetics-ad

ভিয়েতনাম ভারত কি বাংলাদেশকে ছাড়াবে

base_1481742266-xet-1

তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ১ লাখ কোটি ডলারের। এক-তৃতীয়াংশের বেশি দখল নিয়ে এ বাজারের শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানটি বাংলাদেশের। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের পোশাক সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসবে। বাড়বে বাংলাদেশের সরবরাহ— এমনটাই আশা ব্যবসায়ীদের। যদিও এ নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক সরবরাহে দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম ও ভারত। বাজার অংশীদারের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে টপকে যাবে দেশ দুটি।

বহু বছর ধরেই পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের (আঙ্কটাড) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এ বাজারে চীনের দখল ছিল ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ওই সময় বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের দখল ছিল ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০১৪ সাল শেষে চীনের বাজার দখল বেড়ে হয় ৩৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। একই সময়ে বৈশ্বিক পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের দখলও ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশে উন্নীত হয়। বাংলাদেশের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আছে ভিয়েতনাম ও ভারত। ১৯৯৫ সালে এ বাজারের শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ ভিয়েতনামের দখলে থাকলেও ২০১৪ সাল শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী ভারত। ১৯৯৫ সালে দেশটির দখলে ছিল এ বাজারের ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশে।

ব্যবসায়ীদের মতে, চীন থেকে সরে আসা বাজার ধরার চেষ্টা করছে ভিয়েতনাম ও ভারত। যেকোনো সময় বাংলাদেশকে টপকে যাবে দেশ দুটি। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, পণ্য ও গন্তব্য দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের বৈচিত্র্য কম। একইভাবে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও সীমিত। গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশের পোশাক বেশি কিনছে।

বাংলাদেশের পোশাক ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি না হওয়াকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।

বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাকের বড় ক্রেতার সংখ্যা খুব বেশি নয়। আবার যারা আছে, সক্ষমতা থাকলেও তারা বাংলাদেশ থেকে কিনছে তুলনামূলক কম। এছাড়া আরো অনেক সমস্যার কারণেই বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো। কারণ তাদের সক্ষমতা আমাদের চেয়ে সুসংহত। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর নেই, কিন্তু ভারতের আছে। মৌলিক কাঁচামাল আমাদের না থাকলেও ভারতের আছে। দেশটির অনেক রাজ্যে বাংলাদেশের চেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস। বাংলাদেশে খুব সহজেই শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে আছে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা।

কবে নাগাদ ভিয়েতনাম ও ভারত বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে এ ব্যাপারে এখনই সচেতন না হলে ২০২০ সাল নাগাদ ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

বাংলাদেশে বড় ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণায়ও। তাতে দেখা গেছে, ১০-১২টি বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশ থেকে বৃহত্ পরিসরে পোশাক কিনছে। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সিঅ্যান্ডএ তাদের মোট ক্রয়ের ৩২ শতাংশ সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ থেকে। সিএইচ ভোগলে কিনছে ৪১ শতাংশ, জি-স্টার ৩৫, ইন্ডিটেক্স ৩১, নিউ লুক ১২, সুইচার ১২ ও ট্যাকো ফ্যাশন ৩০ শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২১ সালে পোশাক খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তবে প্রতিযোগী দেশগুলোও বসে নেই। তারা নিজেদের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের নীতিসহায়তাও আদায় করছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান অবস্থা ধরে রাখা নিয়ে তাই সংশয় তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানিকারক অন্যতম বৃহত্ প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার ধরার প্রবল চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে সরকারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকিও আদায় করেছেন। অন্যদিকে ভিয়েতনাম দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা আরো বাড়ানোর দিকে মনোযোগী। আবার চীন থেকে অনেক কম সময়ে কাঁচামাল আমদানি করতে পারে ভিয়েতনাম। ভারত, ভিয়েতনাম বা প্রতিযোগী অন্যান্য দেশ এভাবেই সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারছে। বাংলাদেশের মূল দুর্বলতা সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করতে না পারা। সরকার ও ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে মনোযোগী না হলে বাংলাদেশকে টপকে যেতে পারে প্রতিযোগীরা।

ভিয়েতনাম ও ভারতের পাশাপাশি তৈরি পোশাকের বাজারে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোও। এর মধ্যে অন্যতম কম্বোডিয়া ও পাকিস্তান। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো করছে কম্বোডিয়া। ১৯৯৫ সালে তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজারে কম্বোডিয়ার দখল ছিল দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ২০১৪ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে এ বাজারের দশমিক ৯৬ শতাংশ পাকিস্তানের দখলে থাকলেও ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয় ১ শতাংশ। বণিকবার্তা।