
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশ এখন টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির কবলে। এই সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভৌত শাখা বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের টাকাপয়সার লেনদেনে কোনো স্থবিরতা আসবে না। এটিএম বুথ, সিআরএম মেশিন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) সহ সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
একনজরে বিকল্প লেনদেনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও সুবিধা
দীর্ঘ ছুটিতে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোর কারণে লেনদেন এখন অনেক সহজ। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের যে সক্ষমতা রয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
এটিএম (ATM) ও সিআরএম (CRM) নেটওয়ার্ক: সারা দেশে বর্তমানে ১২,৭১৩টি এটিএম বুথ এবং ৮,৪৮৩টি সিআরএম (Cash Recycle Machine) সক্রিয় রয়েছে। এটিএম থেকে শুধু টাকা তোলা গেলেও সিআরএম-এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাৎক্ষণিক টাকা জমাও দিতে পারছেন। অধিকাংশ ব্যাংক এখন এটিএম সরিয়ে সিআরএম বসাচ্ছে, যা ঈদের ছুটিতে গ্রাহকদের জন্য একটি ডিজিটাল কাউন্টার হিসেবে কাজ করবে।
কার্ড ও পেমেন্ট গেটওয়ে: দেশের ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি কার্ড (ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড) ইস্যু করেছে। ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩টি পয়েন্ট অব সেল (POS) মেশিনে কার্ড সোয়াইপ করে সরাসরি কেনাকাটা করা যাবে। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ই-commerce সাইটগুলোতে কেনাকাটা ও বিল পেমেন্ট করা যাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপ সেবা: দেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ২৫ লাখ। গত জানুয়ারি মাসেই এই মাধ্যমে রেকর্ড ১ লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর জন্য এনপিএসবি (NPSB) বা আরটিজিএস (RTGS) সুবিধা অ্যাপের মধ্যেই পাওয়া যাবে। জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে সেলফিন, নেক্সাস পে, আস্থা, সিটিটাচ, স্কাই ব্যাংকিং ও এমটিবি নিও।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS): বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলো এখন দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে এমএফএস-এ টাকা আনা (Add Money) এবং এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ২৪ ঘণ্টা টাকা উত্তোলন (Cash Out) করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নির্দেশনা
ঈদের লম্বা ছুটিতে অনেক সময় এটিএম বুথে টাকার সংকট দেখা দেয়। এটি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বুথে যেন সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নগদ টাকা থাকে এবং টেকনিক্যাল টিম যেন যেকোনো ত্রুটি দ্রুত সমাধানে প্রস্তুত থাকে। এছাড়া পয়েন্ট অব সেল (POS), কিউআর কোড এবং অনলাইন গেটওয়ে ব্যবহার করে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং সেবায় থাকা বড় একটি জনগোষ্ঠী এখন ডিজিটাল সেবার আওতায় আসায় ব্যাংক বন্ধ থাকলেও লেনদেনে বড় কোনো সমস্যা হবে না। তবে গ্রাহকদের কার্ড বা পিন জালিয়াতি রোধে এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।









































