
পরিবার, বন্ধুত্ব ও কর্মক্ষেত্র সব জায়গায় সফট স্কিল প্রয়োজন
- অফিসে নতুন কোনো সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রস্তাব এলে ‘আগেরটাই ভালো ছিল’ বলে নাকচ না করে, সেটি কীভাবে কাজ করে তা বোঝার চেষ্টা করা।
- অফিসের কোনো সেমিনারে গিয়ে শুধু নিজের টেবিলে বসে না থেকে অন্যদের সাথে পরিচিত হওয়া এবং লিংকড-ইনে যুক্ত হওয়া।
- বস যখন আপনার প্রেজেন্টেশনে ভুল ধরিয়ে দেন, তখন মন খারাপ না করে সেই পয়েন্টগুলো নোট করে পরবর্তী কাজে উন্নতি করা।
- সহকর্মীকে ইমেইল করার সময় শুধু “কাজটা করে দিয়েন” না লিখে, নির্দিষ্ট ডেডলাইনসহ বুঝিয়ে বলা।
উপলব্ধিশক্তি
অনেক সময় কেউ স্পষ্টভাবে কিছু না বললেও আমরা যদি পরিস্থিতি বুঝতে পারি, তাহলে যোগাযোগ সহজ হয় এবং ভুল বোঝাবুঝি কমে। এই দক্ষতা বাড়াতে মনোযোগ দিয়ে শোনা, পর্যবেক্ষণ করা এবং বলার আগে বোঝার চেষ্টা করা জরুরি।
- মিটিংয়ে ক্লায়েন্টের চেহারার অভিব্যক্তি দেখে বুঝে নেওয়া যে তিনি আপনার প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন এবং সেই অনুযায়ী কথা ঘুরিয়ে নেওয়া।
আত্মনিয়ন্ত্রণ
আত্মনিয়ন্ত্রণ হল নিজের আবেগ ও আচরণকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারার ক্ষমতা। হঠাৎ রাগ, হতাশা বা তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়।
- জুনিয়রের কোনো অপেশাদার আচরণে প্রচণ্ড রাগ উঠলেও অফিসে সবার সামনে তাকে অপমান না করে আড়ালে ডেকে বুঝিয়ে বলা।
সততা ও নৈতিকতা
দীর্ঘদিন ভাল সম্পর্ক বজায় রাখার অন্যতম ভিত্তি হল সততা ও নৈতিকতা। কথাবার্তা ও কাজে সৎ থাকলে অন্যদের জন্য আপনার ওপর ভরসা করা সহজ হয়।
নিজের ভুলের কারণে কোনো লস হলে তা লুকিয়ে না রেখে ম্যানেজমেন্টের কাছে স্বীকার করা এবং ক্ষমা চাওয়া।
ভদ্রতা
ভদ্রতা ছোট একটি বিষয় মনে হলেও এর প্রভাব বড়। সম্মানজনকভাবে কথা বলা, ধন্যবাদ জানানো বা প্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়ার মত আচরণ সম্পর্ককে সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক করে।
সহকর্মী আপনাকে একটু সাহায্য করলেই তাকে একটি ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ ইমেইল বা মেসেজ পাঠানো।
দায়িত্ব বণ্টন
সব কাজ একা করা সব সময় সম্ভব নয়, আবার প্রয়োজনও হয় না। অনেক সময় লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের ওপর ভরসা করা এবং কাজ ভাগ করে দেওয়া জরুরি।
বড় একটি ইভেন্ট আয়োজনে সব কাজ নিজে না সামলে ক্যাটারিং, ডেকোরেশন ও ইনভাইটেশনের দায়িত্ব অন্যদের দেওয়া।
অন্যের প্রতি বিবেচনা
আমরা সবাই চাই অন্যরা আমাদের সম্মান করুক এবং আমাদের অনুভূতির মূল্য দিক। ঠিক তেমনভাবেই অন্য মানুষের প্রতিও সেই মনোভাব দেখানোই হল বিবেচনাশীলতা।
- নিজের জন্মদিনের পার্টি এমন সময় বা জায়গায় না করা যাতে অন্যের ঘুমের বা কাজের ব্যাঘাত ঘটে।
- কোনো সেলস টার্গেট তিনবার মিস করলেও চতুর্থবার নতুন কৌশল নিয়ে আবার শুরু করা।
- সামনে ডেডলাইন কিন্তু কাজ অনেক বাকি—এমন অবস্থায় প্যানিক না করে কাজগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে শেষ করা।
- সোমবার সকালে আলসেমি না করে হাসিমুখে কাজ শুরু করা, যা পুরো টিমের কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়।

সম্পর্ক গড়ে তোলা, অন্যের অনুভূতি বোঝা, মতভেদ সামলানো বা নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, এসব গুণ সকল ক্ষেত্রেই প্রভাব রাখে
- নতুন কোনো জুনিয়র কর্মী কাজ শিখতে দেরি করলে তাকে বারবার বিরক্ত না হয়ে সময় দিয়ে বুঝিয়ে বলা।
- কোনো সহকর্মী পারিবারিক সমস্যার কারণে কাজে ভুল করলে তাকে বকা না দিয়ে তার পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করা।
- প্রতিদিন অফিসে ঢুকে দারোয়ান থেকে শুরু করে বস পর্যন্ত সবাইকে হাসিমুখে সালাম বা অভিবাদন জানানো।
- হুট করে বড় কোনো প্রেজেন্টেশন দেওয়ার সুযোগ এলে ভয় পেলেও সেটি গ্রহণ করা এবং নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করা।
- মিটিং ঠিক ১০টায় শুরু হলে ৯টা ৫৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছে যাওয়া, যা আপনার দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করে।
- মিটিংয়ে কেউ কথা বলার সময় বারবার ফোনে না তাকিয়ে তার দিকে তাকিয়ে কথা শোনা এবং শেষে প্রশ্ন করা।
- প্রজেক্টে নিজের কাজ শেষ হলেও বিপদে পড়া অন্য সহকর্মীকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসা।
- টিমে আইডিয়া নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে পক্ষ না নিয়ে সবাইকে নিয়ে মাঝামাঝি কোনো সমাধানে পৌঁছানো।
- আপনি জানেন যে আপনি রাগের মাথায় ভুল কথা বলেন, তাই উত্তেজিত অবস্থায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল না পাঠানো।
- প্রজেক্টের বাজেট কমে গেলে হতাশ না হয়ে কীভাবে কম বাজেটে মানসম্মত কাজ করা যায় সেই উপায় বের করা।
- মার্কেটিংয়ের পুরনো ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী কোনো ক্যাম্পেইন আইডিয়া নিয়ে আসা।
- বস রেগে থাকলে তাকে আরও পাল্টা যুক্তি না দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষা করা।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প













































