
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ভেজানো ছোলা পুষ্টিগুণে এতটাই সমৃদ্ধ যে একে শক্তির আধার বলা হয়
সুস্থ থাকার জন্য প্রোটিন এবং আঁশযুক্ত খাবারের বিকল্প নেই। আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় থাকা সাধারণ একটি খাবার ‘ছোলা’ পুষ্টিগুণে এতটাই সমৃদ্ধ যে একে শক্তির আধার বলা হয়। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে ভেজানো ছোলা খাওয়ার চল অনেক পুরোনো। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ছোলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক থাকলেও এটি সবার শরীরের জন্য সমান কার্যকর না-ও হতে পারে। তাই কখন, কীভাবে এবং কাদের এই ছোলা খাওয়া উচিত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
কেন খাবেন খালি পেটে ভেজানো ছোলা?
ভেজানো ছোলা মূলত জটিল শর্করা, প্রোটিন এবং আঁশের চমৎকার উৎস। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার বা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এছাড়া ছোলায় থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সকালে এক মুঠো ছোলা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, যারা স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য ছোলার সাথে ক্যালোরি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করা প্রয়োজন। পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন বাড়াতে চাইলে ভেজানো ছোলার সাথে কাঠবাদাম, কিসমিস বা খেজুর মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ছোলা হালকা সেদ্ধ করে তাতে পনির বা ডিম যোগ করলে উচ্চ ক্যালোরি ও প্রোটিন নিশ্চিত হয়, যা সুস্থভাবে পেশি গঠন ও ওজন বাড়াতে সহায়ক।


ভেজানো ছোলা মূলত জটিল শর্করা, প্রোটিন এবং আঁশের চমৎকার উৎস
সঠিক নিয়ম ও খাওয়ার পদ্ধতি
ছোলা খাওয়ার সেরা সময় হলো সকালবেলা। তবে এটি খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে যা মেনে চললে সর্বোচ্চ পুষ্টি পাওয়া সম্ভব:
- প্রতি রাতে পরিষ্কার পানিতে ছোলা ভিজিয়ে রাখতে হবে। অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ভেজানোর পর ছোলা নরম হলে তা খাওয়ার উপযোগী হয়।
- ছোলার পুষ্টিগুণ বাড়াতে এবং হজম সহজ করতে এর সাথে সামান্য আদা কুচি ও গুড় মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আদা হজমে সাহায্য করে এবং গুড় তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
- যাদের কাঁচা ছোলা খেলে গ্যাস বা পেটে অস্বস্তি হয়, তারা সামান্য লবণ দিয়ে হালকা সেদ্ধ করে খেতে পারেন।
কাদের এড়িয়ে চলা উচিত?
ছোলা উপকারী হলেও সবার জন্য এটি নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যাদের কিডনির জটিলতা রয়েছে, তাদের ছোলা এড়িয়ে চলাই ভালো; কারণ এতে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম ও প্রোটিন কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি- তাদের ছোলা খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে কাঁচা ছোলা হজম করা কঠিন হতে পারে, তাই তাদের সেদ্ধ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক নিয়মে ছোলা খাওয়া দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, কাঁচা ছোলা হজম করা পাকস্থলীর জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য। তাই শুরুতে অল্প পরিমাণ দিয়ে অভ্যাস শুরু করা এবং নিজের শরীরের সহ্যক্ষমতা বুঝে পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। কোনো বিশেষ শারীরিক জটিলতা থাকলে নিয়মিত ছোলা খাওয়ার আগে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজুয়াল














































