
এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী ভূমিকা শ্রেষ্ঠা
দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল নেপাল। দেশটির সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন ৩৭ বছর বয়সী এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী ভূমিকা শ্রেষ্ঠা। গত সোমবার (১৬ মার্চ) তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে নেপালের আইনসভায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়।
নেপাল নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির (আরএসপি) মনোনয়নে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৫ মার্চের জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জোয়ারে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন আরএসপি অভাবনীয় সাফল্য পায়, যারই অংশ হিসেবে ভূমিকার এই অন্তর্ভুক্তি। ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে তিনি এখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভূমিকা শ্রেষ্ঠা জানান, সংবিধানে সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতি থাকলেও আইন ও নীতিতে তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো ঘটেনি। সংসদে এই বৈষম্য দূর করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে, অধিকার সংগঠন ‘ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটি’ এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে যে, এখন থেকে তাদের সমস্যাগুলো সংসদে সরাসরি উত্থাপিত হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় এলজিবিটিকিউ অধিকার রক্ষায় নেপাল আগে থেকেই পথপ্রদর্শক। ২০০৭ সালে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে ২০১৩ সালে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি এবং ২০২৩ সালে সমলিঙ্গের বিয়ে নিবন্ধনের অনুমতির মতো প্রগতিশীল সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ভূমিকা শ্রেষ্ঠার এই বিজয় নেপালের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করল।






































