cosmetics-ad

মৃত্যুপুরীর রাজা কিম জং উন

north-korea

রহস্যে ঘেরা দেশ উত্তর কোরিয়া। চুলের কাট থেকে শুরু করে, জিন্স পরা, বিনোদন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারেও কড়াকড়ি আরোপ রয়েছে সেখানে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার এক নারী কারারক্ষী দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের গোপন বন্দীশালার কথা উন্মোচন করেন। যেখানে হাজারো মানুষকে অনাহারে রাখাসহ মারধর, ধর্ষণ এবং জবাই করা হয়।

লিম হ্যায় জিন ছিলেন দেশটির ‘ক্যাম্প-১২’র কারারক্ষী। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করা উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন ইভেন্টের ভেতরের আড়ালে থাকা ভয়ঙ্কর গল্প বললেন তিনি। ২০ বছর বয়সেই এই সাবেক কারারক্ষীকে একই পরিবারের ৭ জন সদস্যের নৃশংসভাবে হত্যার দৃশ্য দেখতে হয়েছিল। কিম জং উনের শাসন থেকে মুক্তি পেতে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করায় তাদের হত্যা করা হয়। লিমসহ অন্যান্য কারারক্ষীদের কয়েদীদের পেটাতে ও অত্যাচার করতে বাধ্য করা হত।

ডেইলি মেইল অনলাইনকে লিম বলেন, একবার দুই ভাইকে একই সঙ্গে শিরশ্চেদ করা হয় এবং এই দৃশ্য দেখতে সবাইকে বাধ্য করা হয়। একবার এক নারী কয়েদীকে ধর্ষণ ও মারধর করা হয়েছিল। এই দৃশ্য দেখে অনেকদিন খাবার মুখে তুলতে পারেন নি লিম। আরেক বার এক নারী বন্দিকে উলঙ্গ করে তার শরীরে হঠাৎ করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তার অপরাধ ছিল তিনি জিজ্ঞাসাবাদের সময় কারারক্ষীর বিরক্তির কারণ হয়েছিলেন।

লিম বলেন, উত্তর কোরিয়ার কারারক্ষীদের মানুষ বলা যায় না তাদের তুলনা শুধু পশুর সঙ্গেই সম্ভব। তিনি আরো বলেন, আমরা বন্দীদের জন্য কোন সহানুভূতি দেখাতাম না। আমদেরকে বলা হত তারা ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছে। এখন আমি জানি তারা অনেক সাধারণ মানুষ, তাই আগের কথা মনে হলে আমার নিজের কাছে অপরাধ বোধ হয়।

পারিবারিক একনায়কতন্ত্রের সূত্র ধরে কিম জং উন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই নৃশংসতা তীব্র ভাবে বৃদ্ধি পায়। হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের থোর হালভর্সেন বলেন, ‘এই কারাগার মানে নিষ্ঠুরতা। নাৎসি এবং স্তালিনের পর মানবতার প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সৃষ্টি করা ক্যাম্প আর দেখা যায় নি।’

উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা অন্য আরেক সাবেক কারারক্ষী আন মেয়ং সিউল বলেন, ‘যারা মারা গিয়েছেন তারা ভাগ্যবান। এটি আধুনিক দাসত্ব।’

লিম বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার শহর সিউলে বসবাস করছেন। এটি উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে। তবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন কিম জং উনের কঠোর শাসনব্যবস্থা থেকে অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছেন লিম।

লিহান লিমা