cosmetics-ad

বাক্সের ভেতর নগর

৩ সেপ্টেম্বর, সিউলঃ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নগরগুলো আধুনিকতায় ফিটফাট করে তুলতে প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। এই তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল এর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা হাই-টেক নগর বলে স্থান দখল করেছে। সিউলের চেয়ে আরও কেতাদুরস্ত এরই পাশে থাকা সংদো নগর।

একটি অত্যাধুনিক শহর কেমন হতে পারে, সংদোর নানা দিক নিয়ে আলোচনায় সেই গল্প উঠে এসেছে বিবিসি অনলাইনের খবরে। অনেকের কাছে এসব শহর এখন ‘বাক্সের ভেতর শহর’ নামে পরিচিত। কী আছে এই উচ্চপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ পরিবেশবান্ধব নগরে?
52243c3ff069d-Cities

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাতাল রেলপথে যুক্ত করা হয়েছে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই। এতে ই-মেইল পাঠানো বা ভিডিও দেখার কাজটি করা যায় খুব সহজেই। রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে আছে আগমন-বহির্গমনের সময়সূচি দিয়ে বৈদ্যুতিক বোর্ড। স্টেশন থেকে বাসে করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য কতটা সময় অপেক্ষা করতে হবে, এর হিসাবও বৈদ্যুতিক বোর্ডে দেখিয়ে দেওয়া হয়। তাপমাত্রা, জ্বালানির ব্যবহার ও যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য আছে অত্যাধুনিক সেন্সরব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার অন্যতম সুফল হলো, কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খুব সহজেই জানিয়ে দিতে পারে সেই তথ্য।এই শহরে ময়লা-আবর্জনা চোখে পড়ে না কোথাও। কারণ, বাড়িভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালির মতো প্রতিটি বাড়িতেই ময়লা ফেলার পৃথক লাইন আছে। এর মাধ্যমে ময়লা-আবর্জনা সরাসরি ভূগর্ভস্থ টানেলে চলে যায়। সেখানে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ময়লা-আবর্জনার গতি করা হয়। ভবিষ্যতে এর ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে। শহরটিকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে ইতিমধ্যে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। শহর ঘিরে একটি কেন্দ্রীয় পার্ক গড়ে তোলার নকশা করা হয়েছে, যাতে লোকজন হাঁটার সুযোগ পায়।

এত সুন্দর পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার পর এর কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গেলে ইন্টারন্যাশনালের সিআইও জনাথন থোর্প বলেন, জৈব উপাদানের ওপর ভিত্তি করে বৈচিত্র্যময় শহর গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন যা উপযুক্ত বিবেচিত হচ্ছে; আজ থেকে ৫০ বছর পর সেটা টেকসই নাও থাকতে পারে।
(প্রথম আলো থেকে নেওয়া)