cosmetics-ad

‘পরমাণু নয় ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থা আমেরিকার প্রধান টার্গেট’

trump

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মস্কোতে অনুষ্ঠিত পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক বৈঠকে পরমাণু সমঝোতার প্রতি মার্কিন সরকারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি অবস্থান আন্তর্জাতিক সনদের ভাব-মর্যাদা নষ্ট করেছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার ২৬, ২৮ ও ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী গঠনমূলক ও আন্তরিকতার সাথে এটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাসহ ইরানের জন্য ক্ষতিকর যে কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে আমেরিকাকে। কিন্তু ওয়াশিংটন আজ পর্যন্ত এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি বরং পরমাণু সমঝোতার চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। আমেরিকার এ আচরণ আন্তর্জাতিক সমাজকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ টুইটার বার্তায় বলেছেন, “আমেরিকা এ জন্য চিন্তিত যে ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে এবং কোনো অপবাদ দিয়ে এ সত্যকে তারা আড়াল করতে পারবে না। তাই আমরা চাই আমাদের মতো আমেরিকাও প্রতিশ্রুতি মেনে চলুক।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর পরমাণু সমঝোতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য প্রথম সফরে সৌদি আরব যান। রিয়াদে একটি সম্মেলনে তিনি পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে গোলযোগ সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনও ইরান ইস্যুতে কথা বলার জন্য গতকাল (শনিবার) সৌদি আরব সফরে এসেছেন।

ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাংবাদিক ফয়েজ জাহেদ বলেছেন, আমেরিকা দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। একদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশকে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলেছে। কারণ এটা কেউ জানে না ট্রাম্প আসলে শেষ পর্যন্ত কি করতে চান। অন্যদিকে, এই অবস্থার সুযোগে হোয়াইট হাউজের উগ্রপন্থীরা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ বাধিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

যাইহোক, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা আসলে পরমাণু সমঝোতার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে টার্গেট করেছে। এ লক্ষ্যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।