sentbe-top

শাহজালালের নিরাপত্তায় এবার ডগ স্কোয়াড

shahjalal
শাহজালাল বিমানবন্দরে ডগ স্কোয়াড- ফাইল ফটো

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এবার যোগ হচ্ছে ডগ স্কোয়াড। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধীনে ডগ স্কোয়াড ইউনিট পরিচালিত হবে। এই স্কোয়াডের নাম দেওয়া হয়েছে এপিবিএন ‘কে-নাইন’। কে-নাইন ইউনিটে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এপিবিএনের ২৪ সদস্য থাকবেন।

ইতিমধ্যে চলতি বছরের ২ নভেম্বর অপরাধ দমন ও অপরাধী শনাক্তে ডগ স্কোয়াডের জন্য ৮টি কুকুর ইংল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে। এরমধ্যে ৪টি কুকুর ঢাকা মেট্রোপলিটনে নিয়েছে। আর বাকী ৪টি এপিবিএন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

বিমানবন্দর এপিবিএনের অধিনায়ক রাশেদুল হাসান বলেন, নতুন বছর ২০১৮ এর শুরুতেই কে-নাইন ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। তাদের আমদানি করা কুকুরগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২৪ সদস্যের একটি চৌকস দলকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কে-নাইন গঠন করায় শাহজালালের নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করা সম্ভব হবে।

এপিবিএন কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দর ব্যবহার করে অনেক সময় চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে থাকে মাদক ও স্বর্ণ। বিমানবন্দরে ঘোষণা ছাড়া বিস্ম্ফোরক বা আঘ্নেয়াস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গোপনে এসব বহন করা হয়। অনেক সময় গাড়িতে করে অবৈধ মালপত্র নেওয়া হয়। ডগ স্কোয়াড না থাকায় এসব অবৈধ পণ্য শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়। তা ছাড়া অতি জরুরি সময়ে র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ডগ স্কোয়াড দিয়ে বিমানবন্দরে তল্লাশি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। এখন এপিবিএনের আলাদা ডগ স্কোয়াড গঠন হওয়ায় নিজেরাই পুরো নিরাপত্তা দিতে সক্ষমতা অর্জন করল।

এপিবিএন সূত্র জানায়, শাহজালালের নিরাপত্তায় সাত বছর ধরে এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে কাজ করছেন ১১শ’ সদস্য। এসব সদস্যের মধ্যে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চৌকস সদস্যদের দিয়ে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) গঠন করা হয়েছে। আর সর্বশেষ বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় যুক্ত হতে যাচ্ছে ডগ স্কোয়াড।

এদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত বছরের মার্চে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। এরপর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইন। এরপর চলতি বছরের ১ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশকে হাই রিস্ক দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আকাশপথে কার্গো পণ্য পরিবহনে বিধি নিষেধ আরোপ করে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট এপিবিএন’র সিইও (কমান্ডিং অফিসার) রাশিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে ডক স্কোয়াডের মাধ্যমে অপরাধ ও অপরাধী শনাক্ত করা হয়। এবার আমরা এই ডক স্কোয়াডের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান, মাদক ও বিস্ফোরক দ্রব্য অতিসহজে জব্দ করতে সক্ষম হবো। এছাড়া এয়ারপোর্টে দায়িত্বরত কাস্টমস বা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ চাইলে তারা অনুমতি সাপেক্ষে ডগ স্কোয়াডটি ব্যবহার করতে পারবে।

sentbe-top