বরিশালে এক গ্রাম পুলিশের প্রভাবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

barisal-mapবরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইল্লা গ্রামের গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী। থানা পুলিশের সহায়তায় গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবির একের পর এক বেপরোয়া চাঁদাবাজি, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

ওই গ্রাম পুলিশকে বরখাস্ত ও গ্রেফতারসহ শাস্তির দাবিতে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), থানা পুলিশের ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবির একজন চাঁদাবাজ ও মাদক সেবী ও দুশ্চরিত্র লোক। সে থানা পুলিশ ও প্রশাসনের দোহাই দিয়ে গ্রামের মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে। তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ গ্রামের মানুষ। হুমায়ুন কবির এসব চাঁদাবাজিতে থানার কয়েকজন অসাধু পুলিশকে ব্যবহার করে থাকেন। হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপিতে ২৪০ জন গ্রামবাসী স্বাক্ষর করেন। এর আগে গ্রামবাসী খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ এপ্রিল রাতে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ইল্লা গ্রামের মো. মজিবুর রহমানের বাড়িতে বেড়াতে আসেন কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট গ্রামের মো. হেলাল বেপারির ছেলে মানিক হোসেন বেপারি (২০) ও তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (১৮)। ওই দিন রাতে গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবির অসামাজিক কাজের অপবাদ দিয়ে দম্পতির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। বাকি টাকা না দেয়ায় দম্পতির নামে অপহরণ মামলা দেন। সেই দিন থেকে দম্পতি জেল হাজতে রয়েছে। ওই ঘটনায় পরের দিন খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সেরনিয়াবাদ হুমায়ুন কবিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এ ছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে মজিবর রহমান বাদী হয়ে গ্রাম পুলিশকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। গত ২০ দিনে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বুধবার থেকে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে গ্রামবাসী।

খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মান্নান (৬০) বলেন, গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবিরের অত্যাচারে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। গ্রামের নিরহ মানুষকে মাদকে জড়ানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে না দিলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে। হুমায়ুনের ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।

এছাড়া সম্প্রতি সালতা গ্রামের শামছুল হক বেপারির ছেলে সেলিম বেপারিকে (৪৪) ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন হুমায়ুন কবির। অপরদিকে হতদরিদ্র হকার হানিফ সরদারকে মারধর করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

একই অভিযোগ করেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হক (৬৫) এবং ওই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. সিদ্দিক হাওলাদার (৪৬)।

ইল্লা গ্রামের সেরাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মো. কবির হোসেন (২৮) অভিযোগ করে বলেন, গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবির নিরহ মানুষকে জঙ্গি, সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং মাদকে জড়ানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে।

পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের কাসেম শরীফের ছেলে গফুর শরীফ (৪৫) বলেন, গত দুই আগে আমার বিরুদ্ধে থানায় রিপোর্ট আছে বলে ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে এক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন হুমায়ুন।

একই গ্রামের আবেদ আলী ঘরামীর ছেলে আ. হালিম ঘরামী (৪৭) বলেন, গত ১ এপ্রিল আমি ও আমার বন্ধু রুবেল সরদার (২৮) রাত করে বাড়ি ফেরার পথে হুমায়ুন আমাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি দেখায় এবং পরের দিন পুলিশের ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার হাতিয়ে নেন।

একই গ্রামের সুফিয়া বেগম (৪৫) বলেন, সামান্য ঝগড়াঝাটির ঘটনায় হুমায়ুন কবির পুলিশের ভয় দেখিয়ে আমার মামাতো বোন হাফেজা বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

মজিবর রহমান নামে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ায় আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এসব ঘটনার সত্যতা জানতে গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সেরনিয়াবাত বলেন, গ্রাম পুলিশ হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নিরহ গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি, চাঁবাজি, মারধর ও অসাদাচরণের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। ওর অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি নিজে নির্বাহী অফিসার ও ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির বলেন, তারর বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা শুনেছি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খালেদা নাসরিন ইউপি চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসীর স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সৌজন্যে- জাগো নিউজ