ভিয়েতনামে আমার রোজা পালন এবং প্রভুর স্পেশাল সহায়তা

sohelভিয়েতনামে থাকাকালে পবিত্র রামাদান মাস চলে এলো৷ রামাদানের আগের দিন বাবুর্চি মহিলাকে বললাম আগামীকাল থেকে সকাল এবং দুপুরে আমার জন্য রান্না করতে হবে না৷ রামাদানের পুরো এক মাস দিনে আমি খাব না৷ শুনে বাবুর্চি মহিলা বলল,
— তো সকালে আপনাকে কফি করে দেব৷
— না৷ ভোরের আগ থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত না কোনো পানীয়, না কোনো খাবার আমি খাব না৷ এটা আমাদের ধর্মীয় বিধান৷

আমাদের প্রজেক্ট ছিল মফস্বলে৷ সেখানে মুসলমান থাকা তো দুরের কথা দু চারশ কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো মুসলমানের বসবাস নেই খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম৷ আমাকে নামাজ পড়তে দেখে তারা তেমন বিস্মিত না হলেও পুরো একমাস পানাহার ছাড়া থাকব শুনে পুরোই স্তব্ধ৷ বাবুর্চি মহিলা বলল আয়ার কাছে, আয়া বলল অফিসের আরেক মেয়ের কাছে৷ এভাবে অল্প সময়ের মধ্যে সবাই আমার রোযার খবর জেনে গেলো৷ সবার একই প্রশ্ন,
— আপনি কি পুরো একমাস দিনের বেলা পানাহার না করে সুস্থ্য থাকতে পারবেন?
— হুম পারবো৷ আমার স্রষ্টা নিশ্চয় আমাকে সাহায্য করবেন৷

সবাই যেনো আহা বেচারার দৃষ্টিতে আমাকে দেখছে৷ প্রথম রোজার দিন ঘুরেফিরে সবার প্রশ্ন,
— আপনি ঠিক আছেন তো?

কেটে গেলো রামাদানের এক সপ্তাহ৷ আমার চালচলন, কাজকর্ম, কথাবার্তা সব কিছুর স্বাভাবিকতা দেখে তারা রীতিমতো অবাক৷ রামাদান শেষ হলে সবাই বলতে লাগল,

— আসলেই রামাদানে আপনারা নিশ্চয় আপনাদের প্রভুর কাছ থেকে সহায়তা পান৷ তা না হলে ভোরের পূর্ব হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো পানাহার না করে পুরো মাস স্বাভাবিক ভাবে চলা মোটেও সম্ভব না৷
— তা তো অবশ্যই এবং প্রতি বছরই একমাস করে আমরা আমাদের প্রভুর কাছ থেকে এই স্পেশাল সহায়তা পেয়ে থাকি

লিখেছেন- মোঃ সোহেল