cosmetics-ad

‘কয়লা চুরি হয়নি, পুরোটাই সিস্টেম লস’

dudok

কয়লা চুরি হয়নি, সিস্টেম লস হয়েছে বলে দাবি করেছেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদ। বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন তিনি।

হাবিব উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, কয়লা চুরি বা দুর্নীতি হয়নি। যেটুকু কয়লা গায়েব হয়েছে বলে বলা হচ্ছে সেটুকু প্রকৃত অর্থে সিস্টেম লস। তদন্তে এক সময়ে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। সে বিশ্বাস বা আস্থা আমার রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে যেটুকু কয়লা উবে গেছে তার পরিমাণ ১.৪ শতাংশের বেশি হবে না। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির প্রধান ও সংস্থাটির উপ-পরিচালক শামছুল আলম এমডি হাবিবসহ ৮ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বড়পুকুরিয়ার ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা খোলাবাজারে বিক্রি করে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

sentbe-ad

হাবিব উদ্দিন আহমদ ছাড়াও আরো যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন- বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) ও কোম্পানি সেক্রেটারি আবুল কাশেম প্রধানিয়া ও মোশারফ হোসেন সরকার, মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম এবং উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক।

এছাড়া, আগামীকাল (৩০ আগস্ট) আরো তিন আসামিসহ নয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত চতুর্থ দফায় প্রাক্তন চার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২০ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সংস্থাটি।

১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা ঘাটতির অভিযোগে বিসিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বাদী হয়ে কোম্পানির সদ্য প্রাক্তন এমডি হাবিব উদ্দিন আহমদসহ ১৯ জনকে আসামি করে গত ২৪ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানায় একটি মামলা করেন। তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। মামলায় ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ২১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চিঠি দেয় দুদক।

এর আগে এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাগজে-কলমে বেশি কয়লার মজুত দেখিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খতিয়ে দেখতে ২৩ জুলাই তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল দুদক।

সৌজন্যে- রাইজিংবিডি