cosmetics-ad

ঢাবির দুই ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে পদে পদে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ

parvin-saila
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা। ছবি : সংগৃহীত

এবার চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনেছেন হলের এক পার্লার মালিক। এ বিষয়ে তিনি হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগও দিয়েছেন। অভিযুক্ত নেত্রীরা হলেন বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা।

কুয়েত মৈত্রী হলে থাকা পার্লার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর হলে একটি বিউটি পার্লার দেয় হল কর্তৃপক্ষ। ছাত্রলীগের ওই দুই নেত্রী সেখান থেকে মাঝে মাঝে ফ্রি কাজ করান। তার ওপরে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদা না দিলে পার্লার থাকবে না বলেও তারা হুমকি দেন। এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হল প্রশাসন। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে বলে জানান, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ ড. শবনম জাহান। ড. শবনম জাহান বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে।’ তবে, এ নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ছাড়া এই দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে হলের ক্যান্টিন, হলের মেরামত, ইন্টারনেট সেবা, হলের বাইরের বিভিন্ন দোকান থেকেও চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছে হল প্রশাসন।

হলের ডাইনিং থেকে চাঁদা আদায়: ফরিদা ও শ্রাবণীর বিরুদ্ধে হলের ডাইনিং থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে হল প্রশাসন। হলের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘তাঁরা আরো চাঁদা নেওয়ার জন্য, নিজেরা পোকা মেরে ছবি তুলে ফেসবুকে ছাড়েন। তারপর ক্যান্টিন মালিককে অপসারণের জন্য ছাত্রীদের দিয়ে মিছিল করান। অথচ হলের সাধারণ ছাত্রীদের ডাইনিং নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।’

হলে কোনো পণ্যের ক্যাম্পেইন হলেও চাঁদা: এ ছাড়া হলে কোনো পণ্যের ক্যাম্পেইন করতে গেলে এই নেত্রীরা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। সূত্র জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে বোরো প্লাস নামে একটি কোম্পানি হলে ক্যাম্পেইন করতে আসে। সেখান থেকে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা নেন।

লাইনম্যান টাকা তুলেন, নেত্রীরা ভাগ পান: সরেজমিনে হল পরিদর্শন করে দেখা যায়, কুয়েত মৈত্রী হলের বাইরে ফুচকা, তরকারি, চাসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান রয়েছে। প্রত্যেক দোকানদারকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে দিতে হয়। কয়েকজন দোকানদার বলেন, ‘একজন লাইনম্যান আছে। সে প্রতিদিন টাকা তুলেন। নেত্রীরা এই টাকার ভাগ পান।’

হলে কর্মচারীও নিয়োগ দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ: নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হলের প্রতিটি কাজে এইসব (চাঁদা দাবির) কারণে হলের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তাদের কারণে হলে কর্মচারী নিয়োগও দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। কর্মচারীদের কাছ থেকে নেত্রীরা তিন লাখ চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের সন্তানদের চাকরিতে প্রবেশ করানোর প্রস্তাব দেন। হল কর্তৃপক্ষ অনেকবার নেত্রীদের ডেকে বুঝিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা এইসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদা ও শ্রাবণী। হলের অন্য নেত্রীদের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ তুলেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ার আগেই ফরিদা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামনে নির্বাচন, তাই কেউ আমার আর হলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এ রকম বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছে।’ পার্লারে চাঁদা দাবির বিষয়ে বলেন, ‘আমি গত দুই মাস আগে থেকে হলের পার্লারে যাই না।’

এ ছাড়া ক্যান্টিন, ইন্টারনেট সেবা, হলের বাইরের বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদা বলেন,‘এই অভিযোগ আমার আর শ্রাবণী শায়লার বিরুদ্ধে কেন?’ তিনি হলের অন্য নেত্রীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন।

‘আমার কাছে পার্লারের রশিদ আছে’: এদিকে, হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা বলেন, ‘অভিযোগ দিছে কে? এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি যে কয়বার পার্লারে গিয়েছি, সব কয়বার টাকা দিয়েছি। যার মানি রশিদ আমার কাছে আছে।’ তবে, টাকা পরিশোধের রশিদ দেখতে চাইলে এই নেত্রী দেখাতে পারেননি।

ফরিদা ও শ্রাবণী কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদপ্রত্যাশী: জানা যায়, ফরিদা ও শ্রাবণী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে পদপ্রত্যাশী। এসব অভিযোগের বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে অবগত করলে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। বলেন, ‘অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তবে কীভাবে ব্যবস্থা নেব, বুঝতে পারছি না। পদ দিয়ে ব্যবস্থা নেব, নাকি পদ না দিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এই নেতা আরো বলেন, ‘তাঁরা পলিটিকাল (রাজনীতিতে সক্রিয়)। তাঁর মধ্যে শায়লা সাত কলেজের আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল। বিষয়টি কীভাবে কি করা যায়, দেখব।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের আন্দোলনে শ্রাবণী শায়লার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের বস্ত্র হননের অভিযোগ ওঠে। এ সময় ব্যাপক সমালোচনায় আসেন এই নেত্রী।

সৌজন্যে- এনটিভি অনলাইন