sentbe-top

৫ বছর ধরে সন্তানের পথ চেয়ে বসে আছেন বৃদ্ধা মা

munnaদিনের পর দিন চলে যায়, মাস গড়িয়ে বছর। কিন্তু নাড়ি ছেঁড়া ধন মুন্না ফিরে আসে না। মা ময়ুরী বেগমের অপেক্ষার পালাও শেষ হয় না। এই দিনটি এলে আর স্থির থাকতে পারেন না মা। চোখ মুছতে মুছতেই দিনটি কেটে যায় মায়ের। সবার কাছে জানতে চান তার সন্তান আর ফিরবে কি না। ইতোমধ্যে পুত্রশোকে মারা গেছেন মুন্নার বাবা শামসুদ্দিন।

সেদিন ছিল ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ সাল। রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকা থেকে অপহৃত হন ছাত্রদল নেতা নিজাম উদ্দিন মুন্না (২৪)। একদল অস্ত্রধারী নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে মুন্নাকে তুলে নিয়ে যায়। সেই থেকেই মুন্না নিখোঁজ। মুন্নার পরিবার জানায়, তাদের বাসা দক্ষিণখানের আশকোনার মোল্লারটেকে। প্রেমবাগানে তাদের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। মাঝে মধ্যে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসত মুন্না। টঙ্গী কলেজ থেকে সে বিবিএ শেষ করেছিল। বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিল সে। ওই রাতে ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পথে তাকে তুলে নেয়া হয়। তার পেছনে পেছনে বাসায় যাচ্ছিলেন মুন্নার বাবা সামছুদ্দিন। তিনি তার ছেলেকে তুলে নেয়ার ঘটনা সেদিন প্রত্যক্ষ করেন।

ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন, একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস দেখেছিলেন সেদিন। সেই মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন অস্ত্রধারী নেমে প্রথমে মুন্নাকে ঘিরে ধরে। ছেলেকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করতে দেখে তিনি ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি জানতে চান মুন্নাকে কেন তারা নিয়ে যাচ্ছে? সাদা পোশাকের ওই লোকগুলো নিজেদের ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। তাদের প্রত্যেকের সাথে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। সামছুদ্দিন বলেছিলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যে অস্ত্রধারীরা মুন্নাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পরই তারা দক্ষিণ খান থানা ও ডিবি কার্যালয়ে খোঁজ নেন মুন্নার বাবা। কিন্তু তারা মুন্নাুকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। র‌্যাব কার্যালয় থেকেও মুন্নাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। সেই থেকেই নিখোঁজ মুন্না। মুন্নাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিন সন্তানের লেখাপড়ার জন্যই মুন্নার পরিবার ঢাকায় এসেছিল।

এ দিকে ছেলেকে উদ্ধার করে দেয়ার কথা বলে এই পরিবারের সাথে প্রতারণাও করা হয়েছে অনেক। হাতিয়ে নেয়া হয়েছে অর্থকড়ি। মুন্নাকে খুঁজতে খুঁজতে পরিবারটি এক সময় নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ছেলেকে খুঁজে বের করতে এমন কোনো দফতর নেই যেখানে মুন্নার বাবা ধরনা দেননি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কিন্তু হাল ছাড়েননি মুন্নার বাবা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তার সন্তানকে খুঁজেছেন। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে মারা যান মুন্নার বাবা।

মুন্নার মা বলেন, তাদের বিশ্বাস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই মুন্নাকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মুহর্ত ছেলের জন্য পথ চেয়ে বসে থাকি। কখন মুন্না ফিরে আসবে। কেন আমার ছেলেকে ধরে নেয়া হয়েছে। যারা ধরে নিয়ে গেছে তাদের কি মা নেই, সন্তান নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমি একজন মা হিসেবে মিনতি করছি, আমার ছেলের যদি কোনো অপরাধ থেকে থাকে তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়া হোক।’ ময়ুরী বেগমের এই আকুতি একদিনের নয়। গত পাঁচ বছর ধরেই এই আকুতি করে আসছেন তিনি।

সৌজন্যে- নয়া দিগন্ত

sentbe-top