বিশ্ব প্রতিযোগিতায় দুই বাংলাদেশি

youth-forum-finalবিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যখাতে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে গত চারদিন ধরে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে এর সমাধান নিয়ে কাজ করছে টেলিনর ইয়ুথ ফোরাম। ফোরামের ২০১৮-২০১৯ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের দুই প্রতিযোগী।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমাজের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশসহ মোট ৮টি দেশের ১৬ জন প্রতিযোগী নিজেদের আইডিয়া প্রদর্শন করেছে। বাংলাদেশ থেকে দুইজন চারটি আইডিয়া নিয়ে অংশগ্রহণ করছে টেলিনর ইউথ ফোরামে।

নরওয়ের অসলোতে টেলিনর ইয়ুথ ফোরামে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ। মোবাইল ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে চারটি নতুন ধারণার প্রদর্শন করা হয়। ৬ মাসব্যাপী বৈশ্বিক টেলিনর ইয়ুথ ফোরামে নিজেদের যাত্রা শুরু করতে বাংলাদেশ থেকে টেলিনর ইয়ুথ ফোরামের দু’জন বিজয়ী টেলিনরের অন্যান্য বিজনেস ইউনিটের (বিইউ) বিজয়ীদের সাথে অসল পর্বে যোগ দেয়।

সব দলই আজ তাদের প্রস্তাবনা বিচারকদের সামনে তুলে ধরে। বিচারকদের মধ্যে ছিলেন ইউনিসেফের করপোরেট পার্টনারশিপস অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক আমের ফরিদ, শি’র প্রধান নির্বাহী সুসানে কালুজা, টেলিনর গ্রুপের ইভিপি অ্যান্ড হেড অব পিপল সিসিলিয়ে হইচ এবং টেলিনর হেলথের চিফ গ্রোথ অফিসার ম্যাথিউ গিলফোর্ড।

এ নিয়ে টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও সিগভে ব্রেক্কে বলেন, যেসব উৎসাহী তরুণ পৃথিবীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায়, তাদের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম দিতে আমরা প্রতিবছর টেলিনর ইয়ুথ ফোরাম আয়োজন করি। নোবেল শান্তি পুরস্কারের সময়ে আমরা নোবেল পিস সেন্টারের যৌথ সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করছি। আমাদের লক্ষ্য প্রয়োজনীয় সামাজিক নানা সমস্যার টেকসই ডিজিটাল সমাধান নিয়ে আসা। আমরা তাদের প্রস্তাবিত ধারণায় রোমাঞ্চিত।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফোলি বলেন, বিজয়ী দুই তরুণের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ। তারা শুধুমাত্র একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মেই অংশগ্রহণ করবে না, পাশাপাশি এ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাদের আরও অনেক কিছু শিখতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ থেকে সম্ভাবনাময় তরুণরা বিশ্বমঞ্চে যাবে এবং তারা নিজেদের ধারণার বিকাশে ও সমাজের ক্ষমতায়নে নতুন নতুন বিষয় শিখবে, এটা আমাদের জন্য বিশেষ গর্বের বিষয়।

তিনি বলেন, এ বছর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান প্রস্তাব করাই মূল চ্যালেঞ্জ। বিশ্বজুড়েই লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যার সমাধান খুঁজছে। স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান যেকোনো দেশের মূল উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং দেশের সামাজিক ক্ষমতায়নেও এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে। বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে সবার জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এটা সহায়তা করবে। এ বছরের টিওয়াইএফ’র প্রতিপাদ্য ‘ব্রাইট মাইন্ডস রিডিউসিং ইনইকুয়ালিটিস’- এর লক্ষ্য প্রত্যক্ষভাবে সমাজের ক্ষমতায়ন।’

টেলিনর ইয়ুথ ফোরাম একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম যা তরুণদের বৈষম্য দূরীকরণে সম্পৃক্ত করার ধারণার ওপরে তৈরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সম্পর্কিত বৈশ্বিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ প্রতিরোধে এ প্ল্যাটফর্মে স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও এশিয়ার আটটি দেশে তরুণ নেতৃত্বদের নিযুক্ত করা হয়। অসলো ও ব্যাংককে জড়ো হওয়ার মাধ্যমে টেলিনর ইয়ুথ ফোরাম ছয় মাসের যাত্রা নিয়ে থাকছে ‘উই স্টার্ট চেঞ্জ’ প্রদর্শনী। ‘উই স্টার্ট চেঞ্জ’ প্ল্যাটফর্ম সবাইকে ইতিবাচক অবদান রাখতে এবং পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করে। নোবেল পিস সেন্টারের (এনপিসি) যৌথ সহযোগিতায় এ ফোরাম পরিচালিত হয়।

সৌজন্যে- অর্থসূচক