cosmetics-ad

‘যে কারণে আমি সৌদি ছেড়ে পালিয়েছি’

saudi-women

সৌদি আরবে এখনো ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে বেশ কঠোর দেশটির সরকার। বিশেষ করে নারীরা তো নানা রকম শৃঙ্খলায় আবদ্ধ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা শিথিল হয়েছে। কিন্তু রক্ষণশীল দেশটির শৃঙ্খলিত জীবন থেকে মুক্তি পেতে শত শত তরুণী দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধু যুক্তরাজ্যতে প্রতিবছর কয়েক ডজন সৌদি তরুনী আশ্রয় নিতে দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যান। তাদের অভিযোগ তারা দেশে পরিবার ও রাষ্ট্রের দ্বারা নানারকম নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার। আর তারা একবার সৌদি ছেড়ে পালাতে পারলে আর দেশে ফিরতে চান না।

চলতি মাসেই ঘরপালানো আঠারো বছরের সৌদি তরুণী রাহাফ মোহাম্মেদ আল-কুনুনকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধমে বেশ তোলপাড় শুরু হয়। অনেক নাটকীয়তা আর জাতিসংঘের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সে কানাডায় আশ্রয় পেয়েছে। এমন ঘটনা সৌদিতে প্রায় নিয়মিত।

বিবিসির প্রতিনিধি হানান রাজাক সৌদি থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়া দুই তরুণীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারে তারা বলেছেন, দেশ ছেড়ে পালাতে তারা কীভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন।

সৌদি থেকে পালিয়ে আসা রাওয়ান (ছদ্মনাম) নামের এক তরুণী বলেন, ‘আমি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু আমাকে ধর্মের বিভিন্ন রীতি পালনে বাধ্য করা হতো। আমার বাবাই আমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতেন। একদিন আমি আমার পরিবারসহ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে ছিলাম। আমার হাতে খুব অল্প সময় ছিল পালানোর। তখনই আমি পালিয়ে যাই।’

তিনি তার পালিয়ে আসার ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘আমার পরিবারের যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা শুনে আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করি। হিথ্রো বিমানবন্দরে যখন আমার পরিবারের সদস্যরা টয়লেট ব্যবহার করতে যায় ঠিক তখনই আমার হাতে সুযোগ আসে। আমি ভাবতে থাকি আমার হাতে অল্প কয়েক মিনিট সময় আছে শুধু। আশ্রয় চেয়ে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেই।’

রাওয়ান নামের ওই তরুণী আরও জানান, শত শত সৌদি তরুণী দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে তাদের পরিবারের জবরদস্তিমূলক বিভিন্ন নির্যাতন। যার কারণে অনেকে নিজেদের ছোট ভাবতে শুরু করেন। তাছাড়া স্কুল-কলেজ-বিবাহ-পড়াশোনা কিংবা বাড়ির বাইরে কোথাও যাওয়াসহ কোনো বিষয়েই নারীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকে না।

সৌজন্যে- বিবিসি