Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে জোর করে হাজির করা হলো আদালতে

khaleda-zia
ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, মারাত্মক অসুস্থ খালেদা জিয়াকে জোর করে আজ আদালতে হাজির করা হয়।

পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার নবম বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে আজ মঙ্গলবার এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ এপ্রিল তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

আজ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার সাথে ছিলেন তার গৃহকর্মী ফাতেমা। খালেদা জিয়া পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আমিনুল ইসলাম, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, জয়নুল আবেদিন মেজবাহ, আব্দুল খালেক মিলন।

মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মারাত্মক অসুস্থ খালেদা জিয়াকে তার ইচ্ছার বাইরে জোর করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালতে আনার আগে তিনি বমি করেছেন। আদালতেও তাকে মারাত্মক অসুস্থ দেখাচ্ছিল। একদিন আগেই আরেক মামলায় অসুস্থতার জন্য তাকে আদালতে হাজির করা না হলেও আজ তাকে জোর করে হাজির করা হলো।

শুনানিকালে খালেদা জিয়ার পাশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পরে সাংবাদিকদের জানান, বেগম খালেদা জিয়া তাকে অসুস্থতার ব্যাপারে জানিয়েছেন। আদালতে আনার আগে তিনি বমি করেছেন। যতক্ষণ তিনি আদালতে ছিলেন তাকে খুবই অসুস্থ দেখাচ্ছিল। তিনি বসে থাকতে পারছিলেন না। তার মাথা কাঁত হয়ে যাচ্ছিল। শরীর কাঁপছিল। তিনি কিছু কথা বলেই থেমে যাচ্ছিলেন।

ফখরুল আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। অন্যদের এ ব্যাপারে সুযোগ দেয়া হলেও খালেদা জিয়ার ব্যাপারে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছাড়া তার সুচিকিৎসা সম্ভব নয়। বিএসএমএমইউতে তার চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু অনেকেই তো সেখান থেকে পরে অন্য স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন; সিঙ্গাপুরও যাচ্ছেন।

এদিকে, আজ এ মামলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চেয়ে আসামিপক্ষের করা আবেদন নামঞ্জুর করে দিয়েছেন আদালত। কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

সৌজন্যে- নয়া দিগন্ত