cosmetics-ad

‘রহস্যজনক’ অস্ত্র পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার

kim
ফাইল ছব

বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কিম জং উন-এর তত্ত্বাবধানে এক শক্তিশালী ও কৌশলগত অস্ত্র পরীক্ষার খবর জানিয়েছে৷ দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি খতিয়ে দেখছে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার ফলে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা না গেলেও পিয়ং ইয়ং এই সময়কালে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিল৷ সেই ‘সংযম’-কেই বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছিলেন আশাবাদীরা৷ কিন্তু ভিয়েতনামে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে ব্যর্থ বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আবার শীতল হয়ে পড়েছে৷ দুই নেতার মধ্যে তৃতীয় বৈঠক নিয়ে জল্পনাকল্পনার মাঝে উত্তর কোরিয়া নতুন এক কৌশলগত অস্ত্র পরীক্ষা করেছে৷ বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এই দাবি করেছে৷

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে সেই অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছে৷ সেই অস্ত্রের শীর্ষে ‘শক্তিশালী ওয়ারহেড’ ছিল বলেও জানানো হয়েছে৷ কেসিএনএ সংবাদ সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, এই পরীক্ষার আওতায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর উপর বিভিন্ন ধরনের হামলা চালানো হয়েছে৷ কিম নিজে বলেছেন, এই পরীক্ষার ফলে সেনাবাহিনীর যুদ্ধের ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে গেল৷ এই অস্ত্রের ‘অদ্ভুত ধরনের’ নিয়ন্ত্রিত যাত্রাপথ ও শক্তিশালী ওয়ারহেড বাড়তি সুবিধা বয়ে আনছে বলে দাবি করেছে উত্তর কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা৷

এই রহস্যজনক পরীক্ষা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গেছে৷ সপ্তাহের শুরুতেই এক মার্কিন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সেখানে তৎপরতা লক্ষ্য করেছিল৷ আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক কমান্ড বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে৷ মঙ্গলবার কিম বিমান ও বিমান বিধ্বংসী বাহিনী পরিদর্শন করেছিলেন৷

দক্ষিণ কোরিয়ার রাডারে কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ ধরা না পড়ায় অস্ত্রটি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না বলে অনুমান করা হচ্ছে৷ উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ অঙ্কিত পাণ্ডা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, বর্ণনা অনুযায়ী অস্ত্রটি অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল থেকে শুরু করে সারফেস টু এয়ার মিসাইল অথবা রকেট আর্টিলারি সিস্টেম হতে পারে৷ উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসেও কেসিএনএ কিম জং উন-এর তত্ত্বাবধানে ‘নতুন এক কৌশলগত অস্ত্র’ পরীক্ষার দাবি করেছিল৷

এমন রহস্যজনক অস্ত্র পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ হ্যানয় বৈঠকে মার্কিন প্রশাসন অযৌক্তিক দাবি জানিয়েছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পিয়ং ইয়ং৷ গত সপ্তাহে কিম বলেন, ওয়াশিংটন ‘সঠিক মনোভাব’ দেখালে তবেই তিনি আবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত৷ অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে ছোট আকারের কোনো অস্ত্র পরীক্ষা করে সে দেশ সতর্কবার্তা পাঠিয়ে পরোক্ষভাবে সংলাপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে৷ তবে একই সঙ্গে সে দেশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করে না৷ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ত্যাগ করার কৌশলগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলে তবেই তৃতীয় ট্রাম্প-কিম বৈঠক সম্ভব হবে৷

সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার সঙ্গে নতুন বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন৷ কিন্তু পিয়ং ইয়ং সেই ডাকে এখনো সাড়া দেয়নি৷ মুন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে যতটা সম্ভব উদ্যোগ নেবার চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু উত্তর কোরিয়ার উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো বড় আকারের অর্থনৈতিক প্রকল্প রূপায়ণ করা সম্ভব হচ্ছে না৷