বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৫ জুলাই ২০২৫, ১২:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার

আইনগত সংস্কারের মূল লক্ষ্য ন্যায়বিচারকে সহজপ্রাপ্য করা: প্রধান বিচারপতি


প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, কার্যকর নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে দেশের বিচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আইনগত সংস্কারের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র আধুনিকায়নের জন্য নয় বরং ন্যায়বিচারকে সহজপ্রাপ্য করে তোলা।

ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচির উদ্যোগে ‘যথাসময়ে বিচার নিশ্চিত করতে পারিবারিক আদালতের পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসন’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

লিগ্যাল এইড আইনের সংশোধনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরে অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এর ফলে এখন মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা চালু করা হয়েছে। এটি বিরোধপূর্ণ বিচারপদ্ধতি থেকে সমঝোতার পথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ এবং সেলপ ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনালী রানী উপাধ্যায় এবং সাতক্ষীরার সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট জাজ মো: তরিকুল ইসলাম।

পারিবারিক আদালতের দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, চলতি বছরের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৫৯টি মামলা বিচারাধীন, যার মধ্যে ৫ হাজার ৩৪টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তবে একই সময়ে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ১০ হাজার ৮৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি এটিকে বিচারক এবং বার নেতৃবৃন্দের ইতিবাচক জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ফল বলে উল্লেখ করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার-প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অদক্ষতা দূর করতে দেওয়ানি কার্যবিধির সাম্প্রতিক সংশোধনের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা কার্যক্রমের স্তর কমানো হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও জটিলতা কমাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বলেন, পারিবারিক আদালতে ন্যায়বিচার মানে জয় বা পরাজয় নয়; এটি মূলত একটি নিরাময় প্রক্রিয়া। আর এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আমাদের এটিকে আরও সহজপ্রাপ্য, সহানুভূতিশীল ও দ্রুততর করতে হবে। তিনি এই কর্মশালাকে একটি ন্যায়সঙ্গত, দক্ষ এবং জনগণকেন্দ্রিক পারিবারিক বিচারব্যবস্থা গঠনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজে প্রতিটি নারী ও কিশোরী ক্ষতিকর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ না থেকে তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।

কর্মশালায় বিচার বিভাগ, নীতিনির্ধারক, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা দেশের পারিবারিক আদালতগুলোতে সবার জন্য সময়মতো এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।