বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২০ আগস্ট ২০২৫, ৫:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, গাইবান্ধায় মওলানা ভাসানী সেতুর উদ্বোধন


দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, গাইবান্ধায় মওলানা ভাসানী সেতুর উদ্বোধন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে উদ্বোধন হলো গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের স্বপ্নের ‘মওলানা ভাসানী সেতু’। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৯.৬ মিটার প্রস্ত তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মানুষের স্বপ্নপূরণ করেছে। এতদিন এ দুই জেলার যোগাযোগ নির্ভর করত নৌযানের ওপর, যা বর্ষা মৌসুমে হয়ে উঠত ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।

সেতু চালু হওয়ায় দুই জেলার মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকরা দ্রুত সময়ে তাদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারবেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার ঘটবে, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বিদ্যালয়–কলেজে যেতে পারবে এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, তিস্তা সেতু কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সেতু। সেতুটি চালু হওয়ায় কুড়িগ্রাম–গাইবান্ধার মানুষ যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও আসবে নতুন গতি।

এর আগে, আসিফ মাহমুদ রংপুর থেকে সড়ক পথে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহর হয়ে সেতুস্থলে পৌঁছান। পরে সেতুর উত্তর পাশে ফলক উন্মোচন করে সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পর গাড়ি বহরে সেতুর দুই প্রান্ত ঘুরে দেখেন তিনি।

পরে সেতু ঘুরে গোলচত্বর এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেয়।

এদিকে, উদ্বোধনের আগেই সেতু দেখতে ভিড় করেন গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ। নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে সেতু এলাকায়। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ—সবাই যেন নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে সেতু এলাকায় ভিড় জমান। সেতুর দুই প্রান্তে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। সেতুতে মানুষের ভিড় সামলাতে হিশশিম খায় পুলিশ ও সেনাবাহীনির সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।