
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের হতাশা পেছনে ফেলে একদিনের ব্যবধানে আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তন করল রংপুর রাইডার্স। সমালোচনার মাঝেই ব্যাট হাতে নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার দায়িত্বশীল ও ম্যাচজয়ী ইনিংসে সিলেট টাইটান্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ছিল সতর্ক। ওপেনিং জুটিতে ডেভিড মালান ও লিটন দাস দেখেশুনে খেললেও পঞ্চম ওভারে খালেদ আহমেদের শর্ট বল সামলাতে না পেরে ক্যাচ দেন মালান। ২১ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি।
তৃতীয় উইকেটে লিটনের সঙ্গে তাওহীদ হৃদয় জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও তা বেশিদূর এগোয়নি। নাসুম আহমেদের এক ওভারে দু’বার জীবন পেলেও সেই ওভারেই বোল্ড হন হৃদয় (৬ রান)। এরপর কাইল মেয়ার্সকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন লিটন দাস।
তবে দ্রুত রান তুলতে না পারার চাপে পড়ে ফেরেন লিটনও। সাইম আইয়ুবের বলে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও চারটি চার। এরপর মেয়ার্স কিছুটা আগ্রাসী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ইথান ব্রুকসের ওভারেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২৯ বলে ৩১ রান করেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার।
মেয়ার্স আউট হলে ম্যাচ জয়ের জন্য রংপুরের দরকার ছিল ৩১ বলে ৫০ রান। উইকেট কঠিন হয়ে উঠলেও অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে পথ দেখান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন তিনি।
খুশদিল শাহকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকেন রিয়াদ। মোহাম্মদ আমির ও খালেদ আহমেদের ওভারে গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারিতে সমীকরণ সহজ করে ফেলেন তারা। শেষ ১২ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান। মাহমুদউল্লাহ একটি চার মেরে চাপ পুরোপুরি সরিয়ে দেন এবং পরের ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। ১৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, খুশদিলের ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১৯ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে সিলেট টাইটান্স। সাইম আইয়ুব ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। এই উইকেটের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন মোস্তাফিজুর রহমান—বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে, যেখানে প্রথমজন সাকিব আল হাসান।
রনি তালুকদার ও পারভেজ হোসেন ইমন কিছুটা চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ৬৩ রানে চার উইকেট হারানোর পর আফিফ হোসেন ও ইথান ব্রুকসের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পায় সিলেট। আফিফ ৩১ বলে ৪৬ এবং ব্রুকস ৩০ বলে ৩২ রান করেন।
তবে ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরে রংপুর। শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে আরও উইকেট হারায় সিলেট। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
রংপুরের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও ফাহিম আশরাফ নেন তিনটি করে উইকেট। এছাড়া মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও অ্যালিস আল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।









































