বুধবার । জুন ৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক খেলা ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

আইপিএল নয়, তবে কোনটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি লিগ?


Hundred

ক্রিকেট বিশ্বের বিনোদন, অর্থ আর তারকার সমাহারে আইপিএল সবার শীর্ষে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ের ভারসাম্যে পিছিয়ে পড়েছে এই লিগ। ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘উইজডেন’-এর সাম্প্রতিক এক গাণিতিক বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সাধারণত দর্শকরা টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ বা পয়েন্ট টেবিলের অনিশ্চয়তা দিয়ে লিগের মান বিচার করেন। কিন্তু উইজডেন এখানে একটি পরিমাপযোগ্য দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করেছে – ব্যাট ও বলের মধ্যকার ভারসাম্য। তাদের মতে, একটি সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ সেটিই, যেখানে ব্যাটার বা বোলার কেউ এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না এবং একতরফা ম্যাচের সংখ্যা কম থাকে।

উইজডেন মোট ১০টি লিগের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। লিগগুলো হচ্ছে আইপিএল (ভারত), দ্য হানড্রেড (ইংল্যান্ড), সিপিএল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), এলপিএল (শ্রীলঙ্কা), বিবিএল (অস্ট্রেলিয়া), আইএল টি–টোয়েন্টি (সংযুক্ত আরব আমিরাত), এসএ টোয়েন্টি (দক্ষিণ আফ্রিকা), বিপিএল (বাংলাদেশ), পিএসএল (পাকিস্তান) এবং এমএলসি (যুক্তরাষ্ট্র)। এই লিগগুলোয় নিয়মিত বিদেশি খেলোয়াড়েরা অংশ নেন। উইজডেন ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্বের প্রধান ১০টি লিগের ১,১৮১টি ম্যাচের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। 

দুই ইনিংসের রান রেটের পার্থক্য
একটি টুর্নামেন্ট কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, তা বোঝার বড় উপায় হলো প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসের রানের ব্যবধান। যে লিগে এই পার্থক্য যত কম, সেখানে লড়াই তত বেশি সমানে-সমান। নিচের টেবিলে ১০টি লিগের রান রেটের ব্যবধান দেখানো হলো:

টুর্নামেন্টের নামপ্রথম ইনিংসের রান রেটদ্বিতীয় ইনিংসের রান রেটব্যবধান
দ্য হান্ড্রেড (ইংল্যান্ড)৮.২১৮.১৭০.০৪
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL)৭.৫৯৭.৫৩০.০৬
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (CPL)৮.০৩৭.৯৪০.০৯
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)৮.৯৪৮.৮৩০.১১
বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)৭.৮৫৭.৯১-০.০৬
আইএল টি-টোয়েন্টি (UAE)৭.৬৯৭.৮৪-০.১৫
মেজর লিগ ক্রিকেট (USA)৮.৪৩৮.২৮০.১৫
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (LPL)৭.৩৭৭.৯১-০.১৮
এসএ টোয়েন্টি (দক্ষিণ আফ্রিকা)৮.০১৭.৭১০.৩০
পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL)৮.৮১৮.১৮০.৬৩

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের  পরিসংখ্যান
ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ানো বা ৫ রানের কম ব্যবধানে জয় পাওয়ার হারেও দেখা গেছে বড় পার্থক্য। উইজডেনের বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি ‘থ্রিলার’ উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড (১০.২%) এবং পাকিস্তানের পিএসএল (৮.০৮%)। আইপিএল এই তালিকায় আছে তৃতীয় স্থানে (৬.৯৪%)। বাংলাদেশের বিপিএল এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে (২.৫৫%), যা নির্দেশ করে বিপিএলে একতরফা ম্যাচের সংখ্যা বেশি।

ব্যাটিং বনাম বোলিং দাপট
উইজডেনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইপিএল এখন পুরোপুরি ব্যাটারদের রাজত্ব। ২০২৫ আইপিএলে ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫২.৩৯ (সর্বোচ্চ)। কিন্তু সেখানে বোলারদের অবস্থা করুণ; বোলিং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯.৮ (বিশ্লেষণ করা ৩২টি আসরের মধ্যে ৫ম সর্বোচ্চ)। অর্থাৎ আইপিএলে বোলারদের উইকেট পেতে অনেক খাটতে হয়। এর পেছনে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের বড় ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৩ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ ছিল চরম বোলার-বান্ধব (ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২০.২৮)। বাংলাদেশের বিপিএল-এর চিত্রও অনেকটা একই। বিপিএলে বোলিং স্ট্রাইক রেট ১৯.৫ হলেও ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট অনেক কম (১৩৬)। অর্থাৎ বিপিএল ও এলপিএল বোলারদের অনুকূলে থাকে, যা ভারসাম্য নষ্ট করে।

সামগ্রিক ভারসাম্য, রান রেটের ন্যূনতম ব্যবধান এবং শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের হার বিবেচনা করলে দ্য হান্ড্রেড এবং সিপিএল (ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। অন্যদিকে, আইপিএল ও পিএসএল মূলত ব্যাটিং-নির্ভর এবং বিপিএল ও এলপিএল বোলিং-নির্ভর লিগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

রান তাড়া করার রোমাঞ্চ
উইজডেন দেখেছে, ১৮০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জেতা এবং ১৪০-এর মতো ছোট স্কোর ডিফেন্ড করা উভয় দিক থেকেই লড়াই হওয়া জরুরি। গত এক বছরে আইপিএলে ১৫ বার ১৮০+ রান তাড়া করে জয় এসেছে, যা ব্যাটারদের দাপট প্রমাণ করে। অন্যদিকে বিপিএল এবং দ্য হান্ড্রেডে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১ বার। আবার গত এক বছরে মাত্র ৭ বার ১৪০ ডিফেন্ড করা গেছে, যার মধ্যে পিএসএলে একটিও নেই।

সব তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে উইজডেন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ব্যাট-বলের ভারসাম্যের বিচারে দ্য হান্ড্রেড এবং সিপিএল (ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) বর্তমানে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আইপিএল ও পিএসএল মূলত ব্যাটিং-বান্ধব লিগ এবং বিপিএল ও এলপিএল মূলত বোলিং-বান্ধব লিগ।