
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে গ্রিনল্যান্ড সরকার। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “কোনো অবস্থাতেই” গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নেবে না।
স্বশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের সরকার সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। একই সঙ্গে তারা ন্যাটোর সদস্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে জানায়, গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ন্যাটোর আওতাতেই পড়ে।
গ্রিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। এটি এমন একটি বিষয়, যা গ্রিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোট কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নিতে পারে না।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ডেনিশ কমনওয়েলথের অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য। ফলে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ন্যাটোর।”
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি “একভাবে না একভাবে” গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনবেন। তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
গত সপ্তাহে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানায়।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তবে অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সেখানে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ইউরোপীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো হলে ট্রাম্পকে কিছুটা সন্তুষ্ট করা যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব সত্ত্বেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় নেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পাশাপাশি ইরান, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সোমবার ক্রোয়েশিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সব মিত্র দেশই আর্কটিক অঞ্চল ও এর নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে একমত। নতুন সমুদ্রপথ খুলে যাওয়ায় সেখানে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সোমবার এক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য চীনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে।”
তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী আর্কটিক অঞ্চলে সব দেশের কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার ও স্বাধীনতা পূর্ণভাবে সম্মান করা উচিত।”












































