
উইকেট লাভের পর রাজশাহীর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে পাত্তাই দেয়নি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চট্টগ্রামকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছে রাজশাহী।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ভর করে ২০ ওভারে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নির্ধারিত ওভার শেষে মাত্র ১১১ রানেই থেমে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস।
রাজশাহীর বড় সংগ্রহের মূল নায়ক ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শুরুতে সাহিবজাদা ফারহানকে সঙ্গে নিয়ে ৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন তিনি। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে বিদায় নিলেও তানজিদ তার মারকুটে ব্যাটিং চালিয়ে যান। কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৪৭ রানের আরও একটি কার্যকর জুটি গড়ে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তুলে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
৬২ বলে ১০০ রানের এই দুর্দান্ত ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায়। ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পর বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি। শেষ দিকে অধিনায়ক শান্তর ১১ ও জিমি নিশামের ৭ রানে ভর করে লড়াকু পুঁজি পায় রাজশাহী। চট্টগ্রামের হয়ে শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাত্র ১৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনার নাঈম শেখ (৯) ও মাহমুদুল হাসান জয়কে (০) হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। হাসান নেওয়াজও ১১ রানের বেশি করতে পারেননি।
চতুর্থ উইকেটে মির্জা বেগ ও জাহিদুজ্জামান কিছুক্ষণ লড়াই করার চেষ্টা করলেও তাদের মন্থর ব্যাটিং ম্যাচটিকে চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। মির্জা বেগ ৩৯ এবং জাহিদুজ্জামান ১১ রান করে আউট হলে চট্টগ্রামের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয়ে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় টুর্নামেন্টের প্রথম ফাইনালিস্ট চট্টগ্রামকে।
এই জয়ের মাধ্যমে বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল রাজশাহী। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে ‘রাজশাহী রয়্যালস’ নামে তারা প্রথম শিরোপা জিতেছিল।
বিপিএলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চারবার শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এছাড়া ঢাকা তিনবার এবং বরিশাল দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছে। আর একবার করে শিরোপা উঠেছে রংপুর রাইডার্সের হাতে।














































