
রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নাহিদ ইসলাম
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িত যেসব অপরাধী আত্মগোপনে রয়েছে, তাদের সবাইকে শনাক্ত করা হবে। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাষণে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে খুনি হাসিনা গুম, হত্যা, বিনাবিচারে কারাবন্দি, হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার জন্য পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন সরকারি বাহিনী ও সংস্থাকে এ কাজে সক্রিয়ভাবে লাগানো হয়েছে। জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এই অপকর্মে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বা জুলাই বিপ্লবের পর এই দমন-পীড়নের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। নেতৃত্বদানকারী অনেকেই পালিয়েছে, কেউ কেউ বিচারের আওতায় এসেছে, বাকিদেরও আইনের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তবে বহু সামরিক ও বেসামরিক আমলা এবং বিচারক এখনো কর্মরত রয়েছেন। জুডিশিয়ারি, সিভিল সার্ভিস ও পুলিশের শীর্ষ স্তর ভেঙে পড়লেও ডিফেন্স সার্ভিস এখনো অটুট রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, হাজার হাজার খুনি ও লুটেরা সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া, সেখান থেকে নিরাপদে দেশ ছাড়ার ঘটনা, দায়িত্বে থাকা কিছু জেনারেলের পালিয়ে যাওয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়গুলো জনমনে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
তিনি জানান, খুনি হাসিনাকে উৎখাতের পর অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হলেও ঊর্ধ্বতন কমান্ডের অনাগ্রহে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হলেও অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গুমসংক্রান্ত প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমবিষয়ক কমিশন ১ হাজার ৮৫০টির বেশি অভিযোগ নিয়ে কাজ করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা তথ্য ও আলামত নষ্ট করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও তারা নানা ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করছে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, এনসিপির লড়াই হবে ‘নিপীড়নের ব্যবস্থা’ ও ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ সমূলে উৎপাটনের। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সব প্রবণতা সমাজ থেকে চিরতরে মুছে ফেলাই আমাদের অঙ্গীকার।











































