
ঈদ উপহার পেয়ে শিশু ফাতেমার চোখে-মুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখা গেছে
ঢাকার মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের পাশের ফুটপাতে চায়ের দোকান। ছয় বছরের ছোট্ট শিশু ফাতেমা সেখানে তার নানিকে সাহায্য করে। কিছুদিন আগে নানিকে সহায়তা করতে গিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় আহত হয় সে। চায়ের দোকানে তার এই সংগ্রামী জীবন এবং দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফাতেমা ও তার অসহায় নানির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
ভাসমান চায়ের দোকান চালিয়ে নানি ও ফাতেমার সংসার কোনোমতে টেনেটুনে চলে। তাদের এই সংগ্রামী জীবনে উৎসব বা নতুন পোশাক ছিল কেবলই এক অলীক কল্পনা। কিন্তু উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার তাদের বিষণ্ন ঘরে ঈদের চাঁদ নিয়ে এসেছে। উপহার হিসেবে ফাতেমা পেয়েছে তার পছন্দের রঙিন নতুন জামা, এক জোড়া জুতা এবং কসমেটিক্স। একই সঙ্গে তার বয়োবৃদ্ধ নানির জন্য পাঠানো হয়েছে নতুন শাড়ি ও নানাবিধ ঈদসামগ্রী। উপহার হাতে পেয়ে শিশু ফাতেমার চোখে-মুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখা গেছে তা ছিল যেকোনো উৎসবের চেয়েও দামী।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই উপহারগুলো পৌঁছে দিতে ফাতেমাদের ঘরে উপস্থিত হয়েছিলেন একঝাঁক তরুণ নেতা। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের নেতারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তালতলা এলাকায় ফাতেমাদের বাসায় যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও ফরহাদ আলী সজীব প্রমুখ। তারা দীর্ঘক্ষণ ফাতেমার নানির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেন। নেতারা জানান দেশের যেকোনো প্রান্তে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যথিত হন। অসহায় মানুষের এই বিপদে পাশে থাকাই তাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও আদর্শ।
উল্লেখ্য বাঙলা কলেজের সামনে দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বরত একজন পুলিশ সার্জেন্ট পরম মমতায় শিশু ফাতেমাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন। সেই মানবিক দৃশ্যটি কেউ একজন মোবাইলে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ফাতেমার জীবনযুদ্ধ এবং তার অসহায়ত্বের কথা পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তার মানবিক সংগঠনকে নির্দেশ দেন ফাতেমাদের পাশে দাঁড়াতে। এটি কেবল একটি উপহার নয় বরং চরম বিপদে থাকা একটি পরিবারের প্রতি সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ।
ফাতেমার নানি অশ্রুসিক্ত চোখে জানান অভাবের দিনে এই সহায়তা তাদের অনেক বড় পাওনা। তিনি ভাবতেও পারেননি অনেক দূরের কেউ তাদের মতো সামান্য মানুষের খোঁজ রাখবেন। এই ছোট উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে মানবিকতা এখনো টিকে আছে আমাদের সমাজের পরতে পরতে। ফাতেমার সেই ভিডিওটি কেবল যন্ত্রণার গল্প বলেনি বরং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পথও দেখিয়ে দিয়েছে। এখন ফাতেমা ও তার নানি নতুন পোশাক পরে আনন্দের সঙ্গে এবারের ঈদ পালন করতে পারবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ অসহায় মানুষের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।










































