বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক আয়োজন করতে প্রস্তুত পাকিস্তান


Shahbaz Sharif

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনা আয়োজন করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‌‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংলাপের যে প্রচেষ্টা চলছে, পাকিস্তান তা স্বাগত জানায় এবং পূর্ণ সমর্থন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতি সাপেক্ষে পাকিস্তান অর্থবহ ও চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত যাতে চলমান সংঘাতের একটি সমন্বিত সমাধান পাওয়া যায়।’

এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য নিজেদের আয়োজক হিসেবে প্রস্তাব করেছে।

শরিফের পোস্টের কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন।

পাকিস্তানি সূত্রগুলো সোমবার আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য এক বা দুই দিনের মধ্যে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে আসতে পারে। তবে সূত্রগুলো আরও জানায়, ওয়াশিংটনের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে তেহরান এখনও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়।

এদিকে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘কূটনীতি ও আলোচনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কিছু বিষয় গোপনীয়তার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হয়।’ তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে অযথা জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও রয়েছেন।

এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সেইসব দেশকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। তিনি বলেন, গত দুই দিনে তেহরানের সঙ্গে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে।

তবে ইরানের কর্মকর্তারা এ ধরনের আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ‘বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো’ থেকে বার্তা পেয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।