রবিবার । মার্চ ২৯, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের চাঞ্চল্যকর হামলা


US Army

ইরান হামলায় ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বহু মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েকটি ড্রোন ঘাঁটিটিতে আঘাত হানে। অপরদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, এ হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এপি আরও জানিয়েছে, ইরান হামলায় ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে।

এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় একাধিক রিফুয়েলিং বিমান এবং একটি ই–৩ সেন্ট্রি এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিটি একাধিকবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুটি পৃথক হামলায় অন্তত ১৪ জন সেনা আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে এপি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০–র বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির হামলায় মারা গেছেন।

এদিকে শুক্রবারের হামলার একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিতভাবে জানে যে ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, আরেক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থা স্পষ্ট নয়—যেগুলো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে চাপা পড়তে পারে। একইভাবে ইরানের ড্রোন সক্ষমতাও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এসব মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, তেহরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে এবং পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়নি।

ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যেগুলো ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। এখন পর্যন্ত ৩৩৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা ইরানের মোট উৎক্ষেপণ সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ।

এদিকে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্রুতগতিতে তাদের টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ব্যবহার করছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অথচ প্রতি বছর এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন মাত্র কয়েকশ’টি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের মোট মজুদের পরিমাণ প্রকাশ না করলেও এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবশিষ্ট টমাহকের সংখ্যা এখন উদ্বেগজনকভাবে কম।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই অ্যাক্সিওস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানার পরিকল্পনা তৈরি করছে, যাতে স্থল সেনা মোতায়েন ও ব্যাপক বিমান হামলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।