শনিবার । মার্চ ২৮, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৮ মার্চ ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার

এক্সপ্লেইনার

ইয়েমেন থেকে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সত্যি হলে তা কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে!


Houthi

হুতিদের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা রয়েছে, যা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবকাঠামোতে আঘাত হানতে পারে

ইয়েমেন থেকে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা সত্যি হলে এর তাৎপর্য কী হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে—যা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান এক মাসের সংঘাতের মধ্যে প্রথম এ ধরণের ঘটনা। তবে এখন পর্যন্ত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানপন্থী ইয়েমেনি হুতি গোষ্ঠী সতর্ক করে বলেছিল, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অন্য কোনো দেশ যুক্ত হয়, অথবা লোহিত সাগরকে তাদের মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে, হুতিদের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা রয়েছে, যা ইয়েমেনের বাইরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও অবকাঠামোতে আঘাত হানতে পারে। পাশাপাশি আরব উপদ্বীপ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচলেও তারা বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।

এখন পর্যন্ত লেবাননের হিজবুল্লাহ বা ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মতো হুতিরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হুতি গোষ্ঠীর ধর্মীয় ও আদর্শিক অবস্থান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি হিজবুল্লাহ বা ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর মতো সরাসরি অনুগত নয়। যদিও ইরান হুতিদের তাদের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

ইয়েমেন বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদিও হুতিদের প্রধান লক্ষ্য তাদের দেশীয় রাজনীতি ও স্বার্থকেন্দ্রিক, তারপরও তাদের সঙ্গে ইরান ও হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।