মঙ্গলবার । মার্চ ৩১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৩১ মার্চ ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করলো ইসরায়েলের পার্লামেন্ট


israel

ইতিমধ্যেই এই আইন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট সোমবার ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করেছে। নতুন এই আইনে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুটি পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের জন্য সামরিক আদালতে বিচার হলে মৃত্যুদণ্ডকে ডিফল্ট বা স্বাভাবিক শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই আইন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ফিলিস্তিনি পরিচালিত আইনি সংস্থা আদালাহ-এর আইনি পরিচালক সুহাদ বিশারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই আইন রাষ্ট্র অনুমোদিত ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হবে যারা কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এই আইন কেবল ফিলিস্তিনিদেরই লক্ষ্য করছে, যা সমতা ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।’

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এই আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন এসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল একই দিনে জানায় যে, তারাও এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছে।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রথমত, পশ্চিম তীরের জন্য আইন প্রণয়নের কোনো এখতিয়ার ইসরায়েলের সংসদের নেই, কারণ ইসরায়েলের সেখানে সার্বভৌমত্ব নেই।’

তারা আরও উল্লেখ করে, ‘দ্বিতীয়ত, এই আইন অসাংবিধানিক। এটি জীবনের অধিকার, মানবিক মর্যাদা, ন্যায্য বিচার এবং সমতার অধিকার লঙ্ঘন করে, যা ইসরায়েলের ‘বেসিক ল’ দ্বারা সুরক্ষিত।’

আইনটিতে বলা হয়েছে, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আওতায় সংঘটিত হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হবে, যা কার্যত ইসরায়েলি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

এছাড়া, অধিকৃত পশ্চিম তীরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য কার্যত তথ্য গোপন রাখার সুযোগ সৃষ্টি করেছে এই আইন। এতে গোপনে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের সিক্এস ডে ওয়ারের সময় ইসরায়েল জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ দখল করে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই অঞ্চল এখনও অধিকৃত, যেখানে কোনো দখলদার রাষ্ট্র সাধারণত নিজস্ব আইন প্রয়োগ করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপটি কার্যত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার (ডি ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন) ইঙ্গিত দেয়।

সুহাদ বিশারার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’