মঙ্গলবার । মার্চ ৩১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৩১ মার্চ ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে ১২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি


Dubai stock

যুদ্ধ শুরুর পর দুবাই ও আবুধাবির প্রধান সূচক যথাক্রমে প্রায় ১৬ শতাংশ ও ৯ শতাংশ কমে গেছে

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই বাজারগুলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক বাজারগুলোর মধ্যে পড়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে যুদ্ধ শুরুর পর দুবাই ও আবুধাবির প্রধান সূচক যথাক্রমে প্রায় ১৬ শতাংশ ও ৯ শতাংশ কমে গেছে।

এই সময়ে দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট (ডিএফএম) জেনারেল সূচকের বাজার মূলধন প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার কমেছে, আর বৃহত্তর এডিএক্স (আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ) জেনারেল সূচক থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।

একই সময়ে কাতার ও বাহরাইনের শেয়ারবাজার যথাক্রমে প্রায় ৪ শতাংশ ও ৭ শতাংশ কমেছে, তবে সৌদি আরব ও ওমানের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

ওয়াল স্ট্রিটে বেঞ্চমার্ক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক একই সময়ে প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের সময়কাল ও লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বার্তাও বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ধাক্কার প্রভাব সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলকভাবে কম অনুভব করলেও, এই সংঘাত দেশটির আঞ্চলিক ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

যুদ্ধের কারণে কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার রুটে ছিল—যা আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যটন ও ভ্রমণ খাত থেকে দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ শতাংশ।

দুবাইয়ের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাইথাম আউন বলেন, এই পতন সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য নেতিবাচক হলেও, এটিকে স্থায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিবর্তে “সাময়িক ধাক্কা” হিসেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, ‌‘এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের বিশ্বাসে স্বল্পমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে, তবে এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য মৌলিক চ্যালেঞ্জ নয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোকে শুধু সংকটের সময় বাজারের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, বরং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, তারল্য ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা হয়।’

যদিও বৈশ্বিক মানদণ্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজার তুলনামূলকভাবে ছোট, তবে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দেশটি আর্থিক খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ পুঁজি বাজারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির তালিকাভুক্ত শেয়ারের মোট মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা অঞ্চলে সৌদি আরবের ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারের পরেই অবস্থান করছে।

সাম্প্রতিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারস সূচকে দুবাই সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে, যা এ পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান।

২০২৩ সালে ঘোষিত ১০ বছরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের মধ্যে দুবাইকে বিশ্বের শীর্ষ চারটি বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্রের একটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্ডিন হিকক বলেন, যুদ্ধের সমাধান হলে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে “উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার” দেখা যেতে পারে।

তিনি বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে এই অস্থিরতাকে অস্বাভাবিক বলে মনে করি না। বাজারগুলোর মৌলিক আকর্ষণ অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।”