
ফাইল ছবি
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুক্কা সাগর অঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে এই ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ইন্দোনেশিয়ার তেরনাতে শহর থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় ১২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের ১ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সুনামির ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে।
এছাড়া জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও পাপুয়া নিউগিনির উপকূলে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তাদের মূল ভূখণ্ডে সুনামির কোনো হুমকি নেই।
উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, এই কম্পনে আতঙ্কিত মানুষ গভীর রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ২৮ কোটি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এর আগে ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২২ সালের ভূমিকম্পেও দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান।







































