বৃহস্পতিবার । এপ্রিল ২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ইসরায়েলে ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


irani-missile

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল লক্ষ্য করে নিজেদের ইতিহাসের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার (১ এপ্রিল) তেহরান থেকে ছোঁড়া প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পরপরই তেল আবিব, শেফেলাসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বা ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। বিশেষ করে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ (যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়) ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

ইরানের এই হামলার পরপরই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘বিস্তৃত ও ভয়াবহ’ হামলা শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৩৪০ জন নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ইরানের এই প্রতিক্রিয়াপূর্ণ হামলা কেবল ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপরও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।