
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অচল হয়ে পড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার উপায় খুঁজতে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঘোষণা দেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। অনলাইনে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় অংশ নেবে প্রায় ৩৫টি দেশ। মূলত যারা সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারাই এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছে। এ তালিকায় যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানান, বৈঠকে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন পুনরায় চালুর জন্য সম্ভাব্য সব কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই প্রণালি পুনরায় চালু করা সহজ হবে না।” বৈঠকের পর সামরিক পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধ পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষিতে ইরান কার্যত এই প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে, ন্যাটো জোট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাবে স্টারমার বলেন, ন্যাটো বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সামরিক জোট এবং যুক্তরাজ্য এর প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প আরও জানান, জ্বালানি সংকটে ভোগা দেশগুলোর উচিত নিজেদের উদ্যোগে হরমুজ প্রণালি থেকে তেল সংগ্রহ করা, যুক্তরাষ্ট্র এতে কোনো সহায়তা করবে না।








































