মঙ্গলবার । এপ্রিল ১৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা


Hormuz

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত ইরান নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনকে আরও বিপর্যস্ত করবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান জ্বালানি সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী অবরোধ করবে এবং যে কোনো জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে টোল দিয়েছে, তা আটকে দেবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, এই অবৈধ চাঁদাবাজি থেকে ইরানকে লাভ করতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, অবরোধটি শুধুমাত্র ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর প্রযোজ্য হবে—যা ট্রাম্পের পুরো প্রণালী অবরোধের হুমকি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধারাবাহিক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমানে বাজার থেকে আরও তেল সরিয়ে নেওয়া হলে দাম বাড়বে, যার ফলে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

পারসি আরও বলেন, যদি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রণালীটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং উপসাগরীয় তেল-গ্যাস রপ্তানির একটি বিকল্প পথ।

ইরানের আয়ের উৎস বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই অবরোধ ওয়াশিংটনের নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট কমাতে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেখানে যাচাই ও অনুমোদনের পর সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করতে পারছে।

মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩,২০০টি জাহাজ প্রণালীর পশ্চিম েঅংশে আটকে ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি রাসায়নিক, সার এবং প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি পাবে।

সাংহাইভিত্তিক সাপ্লাই চেইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টাইডালওয়েভ সল্যুশনসের সিনিয়র পার্টনার ক্যামেরন জনসন বলেন, অবরোধ বাস্তবায়ন হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, এটি কতদিন স্থায়ী হয়, সেটাই মূল বিষয়। যদি এটি কেবল আলোচনার কৌশল হয়, তাহলে প্রভাব কম হতে পারে। কিন্তু যদি এটি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে কাঁচামালের দাম হঠাৎ বেড়ে যাবে।