
সোমবার বিকেলে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছে এবং জনগণের পক্ষ থেকে সেখানে স্বচ্ছ প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যা করবে তা স্বচ্ছভাবে করবে, কোনো লুকোচুরি থাকবে না। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকলেও সবার লক্ষ্য দেশের মানুষের উন্নয়ন।
সোমবার বিকেলে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা সফরে গিয়ে তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভায় অংশ নেন। এ সময় বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় যখন অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সংস্কারের কথা বলার সাহস পায়নি, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কারণ গত ১৬ বছরে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল এবং মেগা প্রকল্পের নামে শুধু দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী চালুর কাজ চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বল্প খরচে তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষি উন্নয়নের অংশ হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কৃষকের ফসল রক্ষা পায় এবং খরার সময় পানির সংকট কমে।

স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় তিনি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের কাজ দ্রুত শুরুর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য রপ্তানির সুবিধার্থে বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। নবঘোষিত সিটি করপোরেশনকে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাসও দেন তিনি।
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী আদালতের নতুন ভবন, ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম, সিটি করপোরেশনের নামফলক, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তার এ সফর ঘিরে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল








































