মঙ্গলবার । এপ্রিল ২১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনিশ্চিত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা শঙ্কায়


islamabad talks

এদিকে পাকিস্তান এখনো আশাবাদী যে তারা দুই পক্ষকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পারবে

ইরান জানিয়েছে, আপাতত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা করছে না। ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত বহুদফা বৈঠক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি এমন সময় তৈরি হয়েছে যখন যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হতে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং একটি ইরানি কনটেইনার জাহাজ আটক করার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা চালালে ইরানও ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তেহরানের ১০ দফা প্রস্তাবই ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে থাকবে।

এদিকে পাকিস্তান এখনো আশাবাদী যে তারা দুই পক্ষকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পারবে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আলোচনার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল, প্রথম দফার মতো একদিনের বৈঠকের বদলে এবার কয়েকদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা, যা যুদ্ধবিরতি আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আলোচনায় অংশ নিতে তার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও দেন।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করে। ট্রাম্প দাবি করেন, জাহাজটি পূর্বে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। অন্যদিকে ইরান এ ঘটনাকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের প্রকাশ্য কঠোর অবস্থান এবং আড়ালে আলোচনার সম্ভাবনা—দুটি মিলিয়ে একটি কৌশলগত অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের মতে, উভয় পক্ষই এখনো কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

তবে এই দফায় চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। মূল বিরোধের বিষয়গুলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

পাকিস্তান এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল যাই হোক, এই প্রক্রিয়ায় ইসলামাবাদ ইতোমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সমাধান কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা এবং সমঝোতার ওপর।

বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল