
ফাইল ছবি
শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য দূর করতে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো সংসদ ভবন এলাকাকেও লোডশেডিংয়ের আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে ৩০০ বিধিতে এক বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ এবং বিরোধীদলীয় নেতার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বৈষম্য কমাতে রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর জ্বালানি বিষয়ক যৌথ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের নাম প্রস্তাবকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার প্রয়োগ যেন সংসদ এলাকা থেকেই শুরু হয়। ঢাকার অন্যান্য সাধারণ মানুষ যেভাবে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাবে, সংসদ এলাকায় থাকা স্থাপনাগুলোতেও যেন একইভাবে লোডশেডিং করা হয়।”

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদে তো বর্তমানে অধিবেশন চলছে। এখানে লোডশেডিং হলে তো অধিবেশন চালানো সম্ভব হবে না। সংসদ তো আমাদের চালু রাখতে হবে।”
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, সংসদ বলতে আমি চলমান অধিবেশন কক্ষের কথা বলিনি। সংসদ ভবন ছাড়াও সংসদ এলাকায় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা রয়েছে। আমি সেইসব এলাকাকে লোডশেডিংয়ের আওতায় আনার কথা বলেছি, যাতে সাধারণ মানুষের সাথে সংসদ এলাকার ব্যবধান ঘুচে যায়।”
সংসদে দেওয়া ডা. শফিকুর রহমানের এই প্রস্তাবটি অধিবেশনে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি মূলত দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জনসাধারণের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও সমভাগী হওয়ার একটি প্রতীকী আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।




































