শনিবার । এপ্রিল ২৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ চলছে না: হেগসেথ


Pit-Hegseth

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ

ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ আরও কঠোর ও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

হেগসেথ জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন অত্যন্ত সীমিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের অবরোধের পরিধি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া বিশ্বের কোথাও কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারছে না।” তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, অ-ইরানি জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইরানকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তেহরানের সামনে এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ আসার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য ইরানকে অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে হবে। শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনকে পাশে নিয়ে তিনি আরও বলেন, চুক্তি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা উদ্বিগ্ন নয় এবং তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

জেনারেল ড্যান কেইন জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যে ইরানের সব বন্দরের ওপর কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে। এখন পর্যন্ত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান অভিমুখে যাওয়া বা ইরান থেকে আসা প্রতিটি জাহাজের ওপর ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য মাইন স্থাপনের হুমকি নিয়ে হেগসেথ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, ইরানের কোনো ফাস্ট বোট যদি মাইন স্থাপন বা চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে কোনো দ্বিধা ছাড়াই সেটিকে ধ্বংস করতে গুলি চালানো হবে। পানিতে মাইন স্থাপনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর এই নৌ-অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাঝেই পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার একটি আবহ তৈরি হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।