মঙ্গলবার । মে ৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক খেলা ৫ মে ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভারত, বাংলাদেশ ও চীনে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা


WORLD CUP

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

২০২৬ ও ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের সময় ঘনিয়ে এলেও দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের দর্শকদের জন্য তৈরি হয়েছে বড় ধরনের এক অনিশ্চয়তা। বিশ্বের অন্যতম বিশাল দর্শকগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের বাজারে এখন পর্যন্ত কোনো সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনতে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের বিশ্বকাপ উপভোগের বিষয়টি এখন ঝুলে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আগামী দুই বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা) মূল্য নির্ধারণ করেছে। তবে এই তিন দেশের স্থানীয় বাজার থেকে পাওয়া প্রস্তাব ফিফার এই আকাশচুম্বী দাবির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় দরকষাকষি বড় ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে।

ভারতের বাজারে রিলায়েন্স জিও এবং স্টার স্পোর্টস যৌথভাবে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা ফিফার প্রত্যাশার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। প্রায় ২৫০ কোটি টাকার এই প্রস্তাবটি ফিফা ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে সনি নেটওয়ার্ক প্রাথমিকভাবে আগ্রহ দেখালেও পরে তারা প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় একটি প্ল্যাটফর্ম প্রায় ৮০০ কোটি টাকায় স্বত্ব কিনেছিল। তবে আগামী বিশ্বকাপগুলোর ম্যাচ আমেরিকা ও কানাডার সময় অনুযায়ী হওয়ার কারণে ভারতে ম্যাচগুলো গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচারিত হবে। মূলত দর্শক কমার আশঙ্কায় বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এবার এত বিশাল বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে চীনেও। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) বরাবরই বিশ্বকাপের বড় ক্রেতা হলেও এবার তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা তোড়জোড় চোখে পড়েনি।

এদিকে বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা বরাবরের মতো তুঙ্গে থাকলেও সম্প্রচার স্বত্বের বিষয়টি এখনো অন্ধকারে। দেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এখন পর্যন্ত স্বত্ব কেনার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বড় বড় বাজারের এই জটিলতা কাটাতে না পারলে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের বিকল্প উপায়ে খেলা দেখতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফার উচ্চমূল্যের প্রত্যাশা এবং স্থানীয় বাজারগুলোর বাণিজ্যিক বাস্তবতার মধ্যে যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে, তা মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনটি বড় বাজারের এই অচলাবস্থা ফিফার বৈশ্বিক সম্প্রচার কৌশলকেও বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।