বুধবার । মে ৬, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৬ মে ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানের বিরুদ্ধে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শেষ: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্ত। আমরা এই অভিযানের লক্ষ্য অর্জন করেছি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আক্রমণাত্মক পর্যায় এখন শেষ।

রুবিও বলেন, এখন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় চালু করার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রেসিডেন্ট আলোচনার এই পথটিই পছন্দ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সেই পথ বেছে নেয়নি।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে। ২০২৫ সালের জুন মাস এ ইস্যুতে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।

পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় বৈঠক হয় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে। তবে দীর্ঘ এই আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। ২১ দিন ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ সেই বৈঠক। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দেয় ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান। টানা ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।